রাজধানীর উত্তরায় এক গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় অবশেষে রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বাসায় ঢুকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় ওই নারীকে।
যে ভাবে ঘটেছিল ঘটনা
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত রেজিনা মমতাজের বয়স ছিল ৫৯ বছর। তিনি স্বামীর সঙ্গে উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
সোমবার রাত প্রায় আটটা পাঁচ মিনিটে তার স্বামী তারাবির নামাজ আদায় করতে বাসা থেকে বের হন। প্রায় এক ঘণ্টা পরে তিনি ফিরে এসে দেখেন দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। কোনোভাবে ভেতরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, তার স্ত্রী মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
তার হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং নাক-মুখে টেপ প্যাঁচানো ছিল। ঘরের ভেতরের বিভিন্ন জিনিসপত্রও এলোমেলো অবস্থায় পড়ে ছিল।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু
গুরুতর অবস্থায় রেজিনা মমতাজকে দ্রুত উত্তরার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে হত্যার দৃশ্য
ঘটনার তদন্তে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, রাত আটটা আঠারো মিনিটের দিকে মুখোশ পরা দুই ব্যক্তি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে।
তারা ভেতরে ঢুকে ভুক্তভোগীর হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং নাক-মুখে টেপ প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা ঘর থেকে সোনার চুড়ি, সোনার চেইন ও নাকফুল নিয়ে পালিয়ে যায়।
অভিযানে গ্রেপ্তার দুইজন
ঘটনার পর হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরে সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টরে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে নূর আলম ওরফে বাঘ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একটি অফিস থেকে সোনার চুড়ি, সোনার চেইন, নাকফুল, টেপ এবং ভাঙা চশমা উদ্ধার করা হয়, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর কিছুক্ষণ পর রাত সাতটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটের দিকে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশন এলাকার কাছ থেকে আরেক সন্দেহভাজন রাসেল মাদাব্বর ওরফে রাসেল ইসলাম জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনি প্রক্রিয়া চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















