মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি হঠাৎ বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সেলিম রায়হান। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা আমদানি নির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উদ্বেগ
সেলিম রায়হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মন্তব্যে বলেন, ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয়।
এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
জ্বালানি নিরাপত্তায় বাড়ছে চাপ
তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চাপের মুখে পড়তে পারে। দেশে কিছু তেল ও গ্যাসের মজুত থাকলেও দীর্ঘ সময় নতুন আমদানি ব্যাহত হলে সেই মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও বাড়বে, কারণ দেশের বিদ্যুৎ খাতের বড় অংশই আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন ব্যয়ের ঝুঁকি
জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেলে শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হতে পারে।
এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর পড়বে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পখাতের প্রতিযোগিতাও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

দ্রুত নীতিগত প্রস্তুতির তাগিদ
সেলিম রায়হান মনে করেন, এই সংকট দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নেই। যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে এবং সেই প্রভাব বাণিজ্য, জ্বালানি ও আর্থিক খাতের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পৌঁছাবে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ব্যবসায়ী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের নিয়ে জরুরি আলোচনা করে সমন্বিত কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি।
তিনি বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা, আমদানির উৎস বৈচিত্র্য করা, কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন।
সময়োপযোগী ও সমন্বিত নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে সম্ভাব্য বৈশ্বিক জ্বালানি ধাক্কার প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলেও তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















