মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লেও বৃহস্পতিবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে হঠাৎ করেই বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে লাফিয়ে উঠে আঞ্চলিক বাজারকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। একই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত মার্কিন বন্ডের চাহিদা কমে যাওয়ায় সেগুলোর দাম কমেছে এবং ফলন বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বাজার ধাক্কার পর বিনিয়োগকারীরা আবারও ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করায় এই উত্থান দেখা যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সূচকে বড় লাফ
এশিয়ার শেয়ারবাজারে এদিন সবচেয়ে বড় উত্থান হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটির প্রধান শেয়ার সূচক প্রায় ১১ শতাংশের বেশি বেড়ে আগের দিনের বড় পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে আগের দিনের পুনরুদ্ধারও এশিয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

জাপানের প্রধান সূচকও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিস্তৃত শেয়ার সূচক প্রায় চার শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুদ্ধ উত্তেজনায় সতর্ক বাজার
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বাজারে সতর্কতা এখনও রয়ে গেছে। ইরান বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান থামানোর প্রচেষ্টা ওয়াশিংটনে আটকে যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি যেকোনো সময় আবারও তীব্র হতে পারে। ফলে বাজারে দেখা যাওয়া এই প্রাথমিক উত্থান দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
তেল ও সোনার দামে উত্থান
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও প্রায় চার শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট তেলের দামও তিন শতাংশের বেশি বেড়েছে।
অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
চীনের নতুন অর্থনৈতিক লক্ষ্য
এদিকে চীন ২০২৬ সালের জন্য নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। দেশটি আগামী বছরে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম।
চীনের নেতৃত্ব জানিয়েছে, শিল্পখাতে অতিরিক্ত উৎপাদন কমানো এবং অর্থনীতির ভারসাম্য পুনর্গঠনের জন্য এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় উদ্ভাবন, উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প এবং গৃহস্থালি ভোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই ঘোষণার পর চীনের শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং প্রধান সূচকগুলোতে উত্থান দেখা গেছে।
মুদ্রা ও ক্রিপ্টো বাজারে ওঠানামা
বিশ্ববাজারে ডলারের মান আবারও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোর মান সামান্য কমেছে এবং জাপানি মুদ্রাও কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
ডিজিটাল মুদ্রার বাজারেও সামান্য পতন দেখা গেছে। শীর্ষ ক্রিপ্টো সম্পদের দাম এদিন কিছুটা কমে গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজার এখনও মূলত যুদ্ধসংক্রান্ত খবরের ওপর নির্ভর করে ওঠানামা করছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহে আরও চাপ তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















