চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং জাতীয় গণকংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে সরকারের বার্ষিক কর্মপ্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন। সেখানে তাইওয়ান ইস্যু, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা, সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
দুই অধিবেশনের সূচনা
বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার চীনের সর্বোচ্চ আইনসভা জাতীয় গণকংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং সরকারের বার্ষিক কর্মপ্রতিবেদন পেশ করেন। এই অধিবেশনকে ঘিরেই শুরু হয়েছে চীনের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক বৈঠকসমূহ, যা একত্রে ‘দুই অধিবেশন’ নামে পরিচিত।
এই ‘দুই অধিবেশন’-এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় গণকংগ্রেস এবং শীর্ষ পরামর্শক সংস্থা চীনা গণরাজনৈতিক পরামর্শ সম্মেলন। দেশটির নীতি নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নির্ধারণে এই দুই ফোরামের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফরের আগে বৈঠক
এবারের অধিবেশন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগামী ৩১ মার্চ চীন সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে বৈঠকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক সমীকরণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল ও পরিবর্তনশীল। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপ ও বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন তার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশলকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে।
নতুন পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রস্তুতি
চীনের নেতৃত্ব এ সময় ১৫তম পাঁচসালা পরিকল্পনার চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।

সরকারি পর্যায়ে এই পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের লক্ষ্য
এছাড়া চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তরের লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে তথ্যভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনা, সামরিক যান্ত্রিকীকরণ এবং দূরপাল্লার কৌশলগত সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৭ সালটি পিএলএর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সে বছর চীনের এই সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করবে। সেই উপলক্ষকে সামনে রেখে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















