দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরেই অর্ধেক বাতি বন্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে দপ্তরে পৌঁছেই তিনি এই উদ্যোগ নেন এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।
সকালে দপ্তরে পৌঁছে উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতীকুর রহমান রুমন জানান, সকাল প্রায় ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের দপ্তরে পৌঁছান। কক্ষে প্রবেশ করার পরই তিনি প্রায় অর্ধেক বাতি নিভিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ১ ডিগ্রিতে নির্ধারণ করেন।
এরপর মন্ত্রিসভার বৈঠককক্ষে প্রবেশের সময়ও তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখতে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবহার কমাতে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে অবস্থিত, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর অধীন বিভিন্ন বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ রয়েছে।

দপ্তরের অন্য কক্ষেও কমানো হয় আলো ও শীতাতপ
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের পরপরই তার দপ্তরের অন্যান্য কক্ষেও অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ করা হয় এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের একটি প্রতীকী বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দেশজুড়ে সাশ্রয়ের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী দেশের সব মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দিনের বেলায় অপ্রয়োজনীয় কৃত্রিম আলো ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক আলোকে কাজে লাগাতে হবে। এজন্য অফিস ও বাড়িতে জানালা ও পর্দা খুলে সূর্যালোক ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি।
বিদ্যুৎ ব্যবহারে কার্যকর পরিকল্পনার নির্দেশ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রীকে দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে আরও কীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায় তা খতিয়ে দেখার কথাও বলেন তিনি।
জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে উদ্যোগ
জ্বালানির বাড়তি দাম এবং সরবরাহ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি ও প্রাকৃতিক গ্যাস বড় ভূমিকা রাখে। এসব জ্বালানির বড় অংশই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি দেশের জ্বালানি সরবরাহে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















