অনলাইনে পণ্য খোঁজা ও কেনাকাটার ধরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে আসছে কথোপকথনভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ভারতীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইনমোবি এখন সেই নতুন বাজারকে সামনে রেখে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত কেনাকাটা সহায়ক চ্যাটব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা জোরদার করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী নবীন তেওয়ারি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মানুষ পণ্য খুঁজে পাওয়া ও কেনার ক্ষেত্রে সরাসরি কথোপকথনভিত্তিক সহায়কের ওপরই বেশি নির্ভর করবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটায় বড় পরিকল্পনা
ইনমোবি তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্ল্যান্সের মাধ্যমে এমন এক নতুন ধরনের কেনাকাটা পদ্ধতি তৈরি করছে, যেখানে প্রচলিত ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার না করেও কথোপকথনের মাধ্যমে পণ্য খুঁজে দেখা ও কেনা যাবে। এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে কথোপকথনভিত্তিক বাণিজ্য।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ভারতে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়ক ইতিমধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং বাজারে অংশীদারিত্ব বাড়ছে। নবীন তেওয়ারি জানান, এই তিনটি বাজারেই বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

দ্রুত বাড়ছে ব্যবহারকারী সংখ্যা
গত বছর চালু হওয়া গ্ল্যান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর কেনাকাটা অ্যাপ বর্তমানে প্রায় সত্তর লাখ সক্রিয় ব্যবহারকারী পেয়েছে। এর বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারী।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্যবহারকারী সংখ্যা পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলেও আশাবাদী তারা।
নিজের ছবি দিয়েই মিলবে পণ্যের পরামর্শ
এই প্রযুক্তির একটি আকর্ষণীয় সুবিধা হলো ব্যবহারকারী নিজের একটি ছবি আপলোড করলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তার ভিত্তিতে একটি ব্যক্তিগত অবতার তৈরি করে। এরপর সেই অবতারের মাধ্যমে বিভিন্ন পোশাক ও সাজসজ্জার সামগ্রী কেমন দেখাবে, তা দেখিয়ে পণ্যের পরামর্শ দেয়।
এই ব্যবস্থার সঙ্গে প্রায় চারশ অংশীদার ব্র্যান্ডের প্রায় পাঁচ কোটি পণ্য যুক্ত রয়েছে। প্রতিটি লেনদেন থেকে নির্দিষ্ট অংশ পায় গ্ল্যান্স।

জাপানে বাড়ছে কার্যক্রম
ইনমোবি জাপানের বাজারেও কার্যক্রম দ্রুত বাড়াচ্ছে। দেশটিতে তাদের বিজ্ঞাপন ব্যবসার অভিজ্ঞতা আগে থেকেই রয়েছে। গত বছর সেখানে কেনাকাটা সহায়ক চ্যাটব্যবস্থা চালু করার পর এখন বড় স্থানীয় অনলাইন বাজারগুলোর সঙ্গে আরও সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি জাপানের একটি বড় অনলাইন কেনাকাটা প্ল্যাটফর্ম তাদের অ্যাপে গ্ল্যান্সের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটব্যবস্থা যুক্ত করেছে। টোকিওতে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে বর্তমানে প্রায় বিশজন কর্মী কাজ করছেন এবং শিগগিরই কর্মীর সংখ্যা অন্তত দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাণিজ্যের দ্রুত বিস্তার
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর অনলাইন কেনাকাটা এখনো মোট বাজারের ছোট অংশ হলেও দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরে খুচরা অনলাইন বিক্রির খুব সামান্য অংশ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগামী কয়েক বছরে এর অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বিপুল অর্থের বাজার তৈরি হবে।
এই পরিবর্তনের দৌড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন কেনাকাটার সুবিধা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়কের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।

সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, লক্ষ্য শুধু কেনাকাটা
নবীন তেওয়ারির মতে, তাদের শক্তি হলো একটি নির্দিষ্ট খাতে গভীর মনোযোগ। অন্য অনেক প্রতিষ্ঠান সাধারণ উদ্দেশ্যের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করছে, কিন্তু ইনমোবি শুধু কেনাকাটার অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি উন্নয়ন করছে।
তিনি বলেন, পণ্য খোঁজা থেকে শুরু করে অর্থ পরিশোধ এবং কেনার পর গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ—পুরো প্রক্রিয়াকে একটি অভিজ্ঞতায় যুক্ত করাই তাদের লক্ষ্য।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রস্তুতি
দুই হাজার সাত সালে প্রতিষ্ঠিত ইনমোবি শুরুতে মোবাইল বিজ্ঞাপন ব্যবসার মাধ্যমে দ্রুত পরিচিতি পায় এবং কয়েক বছরের মধ্যেই বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অর্জন করে।
এখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভোক্তা প্ল্যাটফর্মে বড় বিনিয়োগ করছে। নবীন তেওয়ারি জানান, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও করছে, সম্ভবত ভারতে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















