গাজীপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যা করে মরদেহে আগুন দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে তদন্তকারীরা। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।
তারাবির নামাজের পর নিখোঁজ
নিহত মাহবুব ইসলাম রনি, বয়স মাত্র ১৩ বছর। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকার ভবানীপুরে অবস্থিত খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ভবানীপুর পূর্বপাড়ার দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় রনি। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবুও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন বনে মিলল মরদেহ
পরদিন স্থানীয় লোকজন ভবানীপুর পূর্বপাড়ার একটি বন থেকে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের মাথা পর্যন্ত অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল।
পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহত রনির দাদা জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য
মামলা হওয়ার পর স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় গত ৫ মার্চ ভবানীপুর এলাকা থেকে সাব্বির আহমেদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বয়স ১৯ বছর। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা হলেও গাজীপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

যেভাবে ঘটেছিল হত্যাকাণ্ড
তদন্তকারীদের কাছে অভিযুক্ত জানিয়েছে, ঘটনার রাতে সে বনে গিয়ে গাঁজা সেবন করছিল। এর আগেও সে সেখানে বহুবার গাঁজা সেবন করতে যেত।
সেই সময় রনি তাকে গাঁজা খেতে দেখে অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। অভিযুক্ত তাকে বিষয়টি কাউকে না বলার অনুরোধ করলেও রনি আবারও সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাব্বির তাকে মাটিতে ফেলে পেছন দিক থেকে গলা চেপে ধরে। কিছুক্ষণ পর রনির মৃত্যু নিশ্চিত হলে মরদেহে আগুন দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তকারীদের ভূমিকা
গাজীপুর জেলার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তথ্য ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত স্বীকার করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















