০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
ইরান যুদ্ধের পর ট্রাম্পের সমঝোতা, বিজয় কার—ওয়াশিংটন নাকি তেহরান? মেক্সিকোর কাছে হারলেও কমেনি উন্মাদনা, তীব্র গরমেও রাস্তায় নেমে কোরিয়া দলের পাশে হাজারো সমর্থক স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে প্রশংসা, ঘরের কাজে সমালোচনা—জাপানি ফুটবল সমর্থকদের ঘিরে নতুন বিতর্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অদৃশ্য মূল্য: পূর্ব এশিয়ার মানুষ কি প্রযুক্তি বিপ্লবের স্বাস্থ্যখরচ বহন করছে? নিয়ন্ত্রণের সীমা: ইরান যুদ্ধ কেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সতর্কবার্তা নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে ‘চাঁদা’ বিতর্ক: মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি, ছুঁইছুঁই সর্বকালের রেকর্ড কুমিল্লায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত সুপারভাইজার, চালকরা পালিয়েছেন নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি, ফলিমারী গ্রামের আতঙ্ক দূরের আহ্বান

কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৫ খাবার, এখনই বদলান খাদ্যাভ্যাস

কোলন ক্যান্সার এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণদের মধ্যেও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পদ্ধতি এই রোগের ঝুঁকির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিছু খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও কিছু খাবার দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রে প্রদাহ বাড়িয়ে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার অভ্যাস কোলনের আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।

প্রক্রিয়াজাত মাংসের ঝুঁকি

বেকন, সসেজ বা হটডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসকে বিশেষজ্ঞরা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী খাবারের তালিকায় রেখেছেন। এসব খাবারে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে কোলনের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে ক্ষতিকর পরিবর্তন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লাল মাংস উপকারী না ক্ষতিকর?

অতিরিক্ত লাল মাংস

গরু, খাসি বা শূকরের মাংস অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গ্রিল বা ভাজা অবস্থায় এই মাংস খাওয়া হলে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়। এসব রাসায়নিক কোলনের কোষে ক্ষতি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায় বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

আঁশ কম থাকা খাবার

খাদ্যতালিকায় আঁশের ঘাটতি থাকলেও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাদা ভাত, পরিশোধিত আটা বা জাঙ্ক ধরনের খাবার অন্ত্রে ধীরে চলাচল করে। এতে ক্ষতিকর পদার্থ দীর্ঘ সময় অন্ত্রে থেকে যায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার খেলে অন্ত্র পরিষ্কার থাকে এবং ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম আঁশ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

মদ্যপানে ক্ষতিকর প্রভাব

মদ্যপানের প্রভাব

নিয়মিত মদ্যপান অন্ত্রের কোষে পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি মাঝারি মাত্রায় মদ্যপানও দীর্ঘমেয়াদে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। এটি অন্ত্রের আবরণে জ্বালা সৃষ্টি করে এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেয়।

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার

গভীর তেলে ভাজা খাবার যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মুরগি বা বিভিন্ন ভাজা নাস্তা শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি করতে পারে। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

High-Protein Diet Plan for Weight Loss - Fitterfly

কী খেলে ঝুঁকি কমে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য এবং হালকা প্রোটিনজাত খাবার রাখলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এসব খাবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে আনা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের পর ট্রাম্পের সমঝোতা, বিজয় কার—ওয়াশিংটন নাকি তেহরান?

কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় যে ৫ খাবার, এখনই বদলান খাদ্যাভ্যাস

০৪:০৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

কোলন ক্যান্সার এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণদের মধ্যেও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পদ্ধতি এই রোগের ঝুঁকির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিছু খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও কিছু খাবার দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রে প্রদাহ বাড়িয়ে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার অভ্যাস কোলনের আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।

প্রক্রিয়াজাত মাংসের ঝুঁকি

বেকন, সসেজ বা হটডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসকে বিশেষজ্ঞরা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী খাবারের তালিকায় রেখেছেন। এসব খাবারে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে কোলনের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে ক্ষতিকর পরিবর্তন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লাল মাংস উপকারী না ক্ষতিকর?

অতিরিক্ত লাল মাংস

গরু, খাসি বা শূকরের মাংস অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গ্রিল বা ভাজা অবস্থায় এই মাংস খাওয়া হলে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়। এসব রাসায়নিক কোলনের কোষে ক্ষতি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায় বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

আঁশ কম থাকা খাবার

খাদ্যতালিকায় আঁশের ঘাটতি থাকলেও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাদা ভাত, পরিশোধিত আটা বা জাঙ্ক ধরনের খাবার অন্ত্রে ধীরে চলাচল করে। এতে ক্ষতিকর পদার্থ দীর্ঘ সময় অন্ত্রে থেকে যায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার খেলে অন্ত্র পরিষ্কার থাকে এবং ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম আঁশ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

মদ্যপানে ক্ষতিকর প্রভাব

মদ্যপানের প্রভাব

নিয়মিত মদ্যপান অন্ত্রের কোষে পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি মাঝারি মাত্রায় মদ্যপানও দীর্ঘমেয়াদে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। এটি অন্ত্রের আবরণে জ্বালা সৃষ্টি করে এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেয়।

অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার

গভীর তেলে ভাজা খাবার যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মুরগি বা বিভিন্ন ভাজা নাস্তা শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি করতে পারে। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

High-Protein Diet Plan for Weight Loss - Fitterfly

কী খেলে ঝুঁকি কমে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য এবং হালকা প্রোটিনজাত খাবার রাখলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এসব খাবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে আনা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।