কোলন ক্যান্সার এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণদের মধ্যেও এই ক্যান্সারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পদ্ধতি এই রোগের ঝুঁকির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিছু খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও কিছু খাবার দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রে প্রদাহ বাড়িয়ে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার অভ্যাস কোলনের আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই এখনই সচেতন হওয়া জরুরি।
প্রক্রিয়াজাত মাংসের ঝুঁকি
বেকন, সসেজ বা হটডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসকে বিশেষজ্ঞরা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী খাবারের তালিকায় রেখেছেন। এসব খাবারে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে কোলনের আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের খাবার খাওয়ার ফলে অন্ত্রে ক্ষতিকর পরিবর্তন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অতিরিক্ত লাল মাংস
গরু, খাসি বা শূকরের মাংস অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে গ্রিল বা ভাজা অবস্থায় এই মাংস খাওয়া হলে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হয়। এসব রাসায়নিক কোলনের কোষে ক্ষতি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায় বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
আঁশ কম থাকা খাবার
খাদ্যতালিকায় আঁশের ঘাটতি থাকলেও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাদা ভাত, পরিশোধিত আটা বা জাঙ্ক ধরনের খাবার অন্ত্রে ধীরে চলাচল করে। এতে ক্ষতিকর পদার্থ দীর্ঘ সময় অন্ত্রে থেকে যায়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার খেলে অন্ত্র পরিষ্কার থাকে এবং ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম আঁশ গ্রহণের পরামর্শ দেন।

মদ্যপানের প্রভাব
নিয়মিত মদ্যপান অন্ত্রের কোষে পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি মাঝারি মাত্রায় মদ্যপানও দীর্ঘমেয়াদে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। এটি অন্ত্রের আবরণে জ্বালা সৃষ্টি করে এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দেয়।
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার
গভীর তেলে ভাজা খাবার যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মুরগি বা বিভিন্ন ভাজা নাস্তা শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি করতে পারে। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

কী খেলে ঝুঁকি কমে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য এবং হালকা প্রোটিনজাত খাবার রাখলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এসব খাবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং ক্ষতিকর খাবার কমিয়ে আনা কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















