ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ মাইক দিয়ে বাজানোর অভিযোগে আটক এক ছাত্রলীগ নেতার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে শনিবার রাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি রাত সাড়ে দশটার দিকে ঘটে বলে জানা গেছে।
ভাষণ বাজানোর অভিযোগে আটক
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে রাজধানীর চকবাজার–চাঁনখারপুল এলাকা থেকে আসিফ আহমেদ নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। তার সঙ্গে একটি সাউন্ড সিস্টেমও জব্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাইক ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাচ্ছিলেন।
আসিফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল শাখার কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায়ও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে ওই হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়।

সামাজিক মাধ্যমে আহ্বান
আসিফের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে একটি কর্মসূচির আয়োজন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি শেখ তাসনিম আফরোজ এমি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে সমর্থকদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
একটি পোস্টে তিনি লেখেন, রাত ৯টা ১৫ মিনিটে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেওয়া হবে এবং সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধপন্থী সমর্থকদের উপস্থিত থাকার আহ্বানও জানান।
এর আগে আরেকটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, চাঁনখারপুল থেকে আটক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন ক্যাম্পাসে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর দাবি তোলা হবে।
কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা
রাতে কর্মসূচি শুরু হলে এমি ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন শাহবাগ থানার সামনে মাইক ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজাতে শুরু করেন। কর্মসূচির আশপাশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীকেও অবস্থান নিতে দেখা যায়, যদিও তারা কিছুটা দূরে ছিলেন।
এ সময় শাহবাগ থানার দিক থেকে আসা একদল লোক হঠাৎ মাইক্রোফোন ভাঙচুর করে এবং ব্যাটারি নিয়ে যায়। তারা আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এমি অভিযোগ করেন, বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা হয়েছে এবং মাইকের ব্যাটারি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আরেক দফা ধস্তাধস্তি
পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা শাহবাগ থানার সামনে এসে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগবিরোধী স্লোগান দেন। রাত প্রায় ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কয়েকজন নেতাও সেখানে উপস্থিত হন।
এই সময় মাইক থানার ভেতরে নেওয়া নিয়ে আবারও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে টেনে থানার ভেতরে নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার ঘটনাও ঘটে।
পুলিশের বক্তব্য
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, আটক ব্যক্তিকে ছাত্রলীগের একজন পদধারী নেতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ সংগঠন হওয়ায় এবং জুলাই আন্দোলনের সময় বিতর্কিত ভূমিকার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় তাকে এখনই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় এগোবে।
তিনি আরও বলেন, শাহবাগ থানার সামনে মাইক বাজানো একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। তবে ৭ মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক ভাষণ এবং সে বিষয়ে পুলিশের কোনো মন্তব্য নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















