ঝিনাইদহ শহরে একটি ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া নিয়ে তর্কের জেরে মারধরের ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত যুবকের নাম নিরব। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার বড়বাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রামের আলীমুর রহমানের ছেলে। ঝিনাইদহ পৌরসভার ব্যাপারীপাড়ায় পালক বাবা আবুল কাশেমের বাড়ির পাশে তিনি বসবাস করতেন। শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার একটি ফাস্টফুডের দোকান ছিল।
ঘটনার পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন নাসিম হোসেন, রমিজুল ইসলাম এবং দাউদ।
তেল নিতে গিয়ে শুরু তর্ক
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাতে নিরব ও তার এক সঙ্গী মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে আরাপপুর এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে যান। তখন সেখানে থাকা কর্মীরা তাদের তেল দিতে অপারগতার কথা জানান। কিছুক্ষণ পর তারা আবার সেখানে ফিরে গেলে দেখেন, অন্য একজনকে পাঁচ লিটারের বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তর্ক এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়।

লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত
ধস্তাধস্তির সময় এক পাম্পকর্মীর লাঠির আঘাতে নিরব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরবের পালক বাবা আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, মোটরসাইকেলে তেল না দিয়ে বোতলে তেল দেওয়ার প্রতিবাদ করায় পাম্পকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুমন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় নিরবকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আরেফিন জানান, এ ঘটনায় আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















