কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গড়াই নদীতে স্নান করতে নেমে চার শিশুর ভেসে যাওয়ার ঘটনায় দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে আরও দুই শিশু। তাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা।
শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নদীর স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর স্থানীয় এক নৌকার মাঝি দ্রুত এগিয়ে গিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। কিন্তু অন্য দুইজন এখনও নিখোঁজ থাকায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
গড়াই নদীতে স্নান করতে নেমেই দুর্ঘটনা
উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর নাম সামিয়া (৬) ও সুমাইয়া (৮)। নিখোঁজ দুই শিশু হল তায়ফা (৭) ও সুরাইয়া (৮)।
চারজনই পরস্পরের আত্মীয় এবং খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, শনিবার দুপুরে চারজন মিলে গড়াই নদীতে গোসল করতে নামে। নদীর মাঝখানে জেগে ওঠা একটি চর পর্যন্ত সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় হঠাৎ প্রবল স্রোতে তারা ভেসে যায়।

মাঝির দ্রুত উপস্থিতিতে বাঁচল দুই শিশু
স্থানীয় নৌকার মাঝি আব্দুর রশিদ জানান, বিকেল আড়াইটার দিকে তিনি ওসমানপুর ঘাটের কাছে নদীতে শিশুদের সাঁতার কাটতে দেখেন। যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করেন তিনজন শিশু স্রোতে ভেসে দূরে চলে যাচ্ছে।
তিনি দ্রুত নৌকা ঘুরিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান এবং দুইজনকে টেনে তুলতে সক্ষম হন। তবে আরেক শিশুকে নদীর পানিতে লড়াই করতে দেখলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই সে ডুবে যায় বলে জানান তিনি।
উদ্ধার হওয়া শিশুর বর্ণনা
উদ্ধার হওয়া সামিয়া জানায়, তারা চারজন মিলে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিল এবং নদীর মাঝের চরের দিকে সাঁতার কাটছিল।
এক পর্যায়ে নদীর তীব্র স্রোতে তারা ভেসে যায়। সবাই চেষ্টা করলেও তীরে ফিরতে পারেনি। স্রোতের টানে দুই শিশু আরও দূরে চলে যায়।

নিখোঁজ দুই শিশুকে খুঁজতে অভিযান
ঘটনার খবর পেয়ে খোকসা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে জাল ফেলে খোঁজ চালানো হচ্ছে।
খোকসা ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট প্রধান রওশন আলী জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুদের তথ্য অনুযায়ী এখনও দুইজন নিখোঁজ রয়েছে।
নিখোঁজ এক শিশুর পায়জামা ইতিমধ্যে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। খুলনা থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে এবং রাতের মধ্যেই তারা পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা গেলে রাতেও নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















