রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদের নামাজে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে জামায়াতের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান।
ইমাম নিয়োগ নিয়ে তর্ক থেকে সংঘর্ষ
শনিবার রাতের দিকে উপজেলার সাঁকোয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাঁকোয়া ঈদগাহ বড় মসজিদে তারাবির নামাজের আগে আসন্ন ঈদের নামাজে কে ইমামতি করবেন তা নির্ধারণ করতে একটি আলোচনা সভা ডাকা হয়। সেখানে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার একপর্যায়ে দুই পক্ষ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি তুললে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। তর্ক-বিতর্ক দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং পরে তা সংঘর্ষে পরিণত হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু
সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জামায়াত কর্মী আলাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
মোহনপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল আওয়াল জানান, সংঘর্ষের সময় বিএনপি কর্মীদের হামলায় তাদের কয়েকজন কর্মী আহত হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আলাউদ্দিন মারা যান। তিনি ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন।
অন্যদিকে কেশরহাট পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানের দাবি, দুই পক্ষের ধস্তাধস্তির মধ্যে পড়ে আলাউদ্দিনের হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ
আলাউদ্দিনের মৃত্যুর প্রতিবাদে জামায়াতের নেতাকর্মীরা রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এ সময় একটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।
এলাকায় উত্তেজনা
ঘটনার পর থেকে মোহনপুরের সাঁকোয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















