চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের একটি গ্রামে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ করে স্থানীয় মসজিদ কমিটির দেওয়া নোটিসকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মসজিদ কমিটিকে লিখিতভাবে ভুল স্বীকার করতে বলা হয়েছে।
নোটিস ও ফেস্টুনে নিষেধাজ্ঞা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পোড়াগ্রামে প্রায় তিন মাস আগে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে একটি নোটিস দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার স্বার্থে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
নোটিসের পাশাপাশি গ্রামে সতর্কবার্তা হিসেবে কয়েকটি ফেস্টুনও টাঙানো হয়। সেই নির্দেশনায় শুধু সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের ক্ষেত্রেও উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নোটিসে উল্লেখ ছিল।

গ্রামে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নোটিস জারির পর থেকে গ্রামে প্রকাশ্যে গান-বাজনা প্রায় বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। অনেকেই এটিকে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও অন্যদের মতে, বিয়ে, খৎনা বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে গান-বাজনা পুরোপুরি বন্ধ রাখা বাস্তবসম্মত নয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নোটিসের পর গ্রামে ফেস্টুন টাঙানো হয় এবং মসজিদ থেকেও ঘোষণা দিয়ে বিয়ে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান-বাজনা বন্ধ রাখতে বলা হয়। এমনকি নিয়ম না মানলে বিয়ে পড়াতে না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
সম্প্রতি বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ গ্রাম থেকে ফেস্টুনগুলো সরিয়ে নেয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন বলেন, কোনো মসজিদ কমিটি এভাবে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করতে পারে না এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। বিষয়টি বোঝানোর পর সংশ্লিষ্টরা তাদের ভুল স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও জানান, মসজিদ কমিটিকে সভা করে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে এবং লিখিতভাবে ভুল স্বীকার করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিতে বলা হয়েছে।

মসজিদ কমিটির প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নোটিস দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















