১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
একজন ট্রিলিয়নিয়ার বনাম ৪৯% দরিদ্র মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য

গাজরের ফেলে দেওয়া অংশেই নতুন খাবার! ছত্রাকের শক্তিতে তৈরি হতে পারে ভবিষ্যতের পুষ্টিকর খাদ্য

বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা। কিন্তু একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ খাবারের অপচয়ও হচ্ছে প্রতিদিন। বিজ্ঞানীরা এখন সেই অপচয় হওয়া খাদ্যবর্জ্যকে নতুন করে খাবারে রূপান্তরের উপায় খুঁজছেন। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, গাজরের ফেলে দেওয়া অংশ থেকেও তৈরি হতে পারে খাওয়ার উপযোগী পুষ্টিকর খাদ্য।

খাদ্যবর্জ্য থেকে নতুন সম্ভাবনা

বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা এখন বড় একটি আলোচনার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রান্নাঘর বা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে যে বিপুল পরিমাণ উদ্ভিজ্জ বর্জ্য তৈরি হয়, তা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় তবে ভবিষ্যতের খাদ্য সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন সবজি, ডিম ও মাংস ব্যবহারের সময় আমরা যেসব অংশ খাই না, সেগুলো সাধারণত ফেলে দিই। গাজরের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। গাজরের খোসা, মাথার অংশ এবং নিচের অংশ সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়। আবার মিষ্টি বা অন্য খাবার তৈরির সময়ও গাজরের কিছু অংশ বর্জ্য হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এইসব অংশ আসলে সম্পূর্ণ অকার্যকর নয়। এগুলোকে সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় খাদ্যে রূপান্তর করা সম্ভব।

ছত্রাকের বিশেষ ক্ষমতা

এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ছত্রাক। ছত্রাক এক ধরনের জীব, যা উদ্ভিদ বা প্রাণী—কোনোটির মতোই নয়। তাদের খাদ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।

উদ্ভিদের মতো তারা সূর্যালোক ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। আবার প্রাণীদের মতো সরাসরি খাবার খেয়েও শক্তি পায় না। বরং তারা পরিবেশে শক্তিশালী এনজাইম ছড়িয়ে জৈব পদার্থ ভেঙে ফেলে এবং পরে সেখান থেকে পুষ্টি শোষণ করে।

ছত্রাকের শরীরে থাকে সূক্ষ্ম সুতোসদৃশ কাঠামো, যাকে বলা হয় মাইসেলিয়া। এই কাঠামোর মাধ্যমে তারা চারপাশের পদার্থ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। এ কারণেই প্রায় সব ধরনের জৈব বর্জ্য ভেঙে ফেলার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাদের।

গাজরের খোসা ফেলে দেন? গুণের কথা জানলে তো চমকে উঠবেন

গাজরের বর্জ্য থেকে তৈরি নতুন খাবার

গবেষণায় বিভিন্ন দেশের একশোর বেশি ধরনের মাশরুম বা ভোজ্য ছত্রাক পরীক্ষা করা হয়। দেখা গেছে, এসব ছত্রাক সহজেই গাজরের ফেলে দেওয়া অংশ ভেঙে পুষ্টিকর উপাদানে রূপান্তর করতে পারে।

গবেষকেরা বিশেষভাবে গোলাপি অয়েস্টার মাশরুমের মাইসেলিয়া ব্যবহার করে গাজরের বর্জ্য থেকে একটি নতুন ধরনের খাবার তৈরি করেছেন। এই উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে উদ্ভিদভিত্তিক প্যাটি, যা অনেক ক্ষেত্রে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন পথ

গাজর আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি সবজি। তরকারি, সালাদ, নাস্তা কিংবা মিষ্টি—সব জায়গাতেই এর ব্যবহার রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সঙ্গে মাশরুমের ব্যবহার বাড়ালে খাবারের পুষ্টিগুণ আরও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে খাদ্যবর্জ্যকে ছত্রাকের মাধ্যমে রূপান্তর করে উচ্চমানের প্রোটিন ও ভিটামিন তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন অপচয় কমবে, অন্যদিকে বাড়বে খাদ্যের জোগানও।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পৃথিবীতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

একজন ট্রিলিয়নিয়ার বনাম ৪৯% দরিদ্র

গাজরের ফেলে দেওয়া অংশেই নতুন খাবার! ছত্রাকের শক্তিতে তৈরি হতে পারে ভবিষ্যতের পুষ্টিকর খাদ্য

০১:০১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা। কিন্তু একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ খাবারের অপচয়ও হচ্ছে প্রতিদিন। বিজ্ঞানীরা এখন সেই অপচয় হওয়া খাদ্যবর্জ্যকে নতুন করে খাবারে রূপান্তরের উপায় খুঁজছেন। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, গাজরের ফেলে দেওয়া অংশ থেকেও তৈরি হতে পারে খাওয়ার উপযোগী পুষ্টিকর খাদ্য।

খাদ্যবর্জ্য থেকে নতুন সম্ভাবনা

বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা এখন বড় একটি আলোচনার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রান্নাঘর বা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে যে বিপুল পরিমাণ উদ্ভিজ্জ বর্জ্য তৈরি হয়, তা যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায় তবে ভবিষ্যতের খাদ্য সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন সবজি, ডিম ও মাংস ব্যবহারের সময় আমরা যেসব অংশ খাই না, সেগুলো সাধারণত ফেলে দিই। গাজরের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। গাজরের খোসা, মাথার অংশ এবং নিচের অংশ সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়। আবার মিষ্টি বা অন্য খাবার তৈরির সময়ও গাজরের কিছু অংশ বর্জ্য হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এইসব অংশ আসলে সম্পূর্ণ অকার্যকর নয়। এগুলোকে সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় খাদ্যে রূপান্তর করা সম্ভব।

ছত্রাকের বিশেষ ক্ষমতা

এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ছত্রাক। ছত্রাক এক ধরনের জীব, যা উদ্ভিদ বা প্রাণী—কোনোটির মতোই নয়। তাদের খাদ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা।

উদ্ভিদের মতো তারা সূর্যালোক ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। আবার প্রাণীদের মতো সরাসরি খাবার খেয়েও শক্তি পায় না। বরং তারা পরিবেশে শক্তিশালী এনজাইম ছড়িয়ে জৈব পদার্থ ভেঙে ফেলে এবং পরে সেখান থেকে পুষ্টি শোষণ করে।

ছত্রাকের শরীরে থাকে সূক্ষ্ম সুতোসদৃশ কাঠামো, যাকে বলা হয় মাইসেলিয়া। এই কাঠামোর মাধ্যমে তারা চারপাশের পদার্থ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে। এ কারণেই প্রায় সব ধরনের জৈব বর্জ্য ভেঙে ফেলার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তাদের।

গাজরের খোসা ফেলে দেন? গুণের কথা জানলে তো চমকে উঠবেন

গাজরের বর্জ্য থেকে তৈরি নতুন খাবার

গবেষণায় বিভিন্ন দেশের একশোর বেশি ধরনের মাশরুম বা ভোজ্য ছত্রাক পরীক্ষা করা হয়। দেখা গেছে, এসব ছত্রাক সহজেই গাজরের ফেলে দেওয়া অংশ ভেঙে পুষ্টিকর উপাদানে রূপান্তর করতে পারে।

গবেষকেরা বিশেষভাবে গোলাপি অয়েস্টার মাশরুমের মাইসেলিয়া ব্যবহার করে গাজরের বর্জ্য থেকে একটি নতুন ধরনের খাবার তৈরি করেছেন। এই উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়েছে উদ্ভিদভিত্তিক প্যাটি, যা অনেক ক্ষেত্রে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন পথ

গাজর আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে বহুল ব্যবহৃত একটি সবজি। তরকারি, সালাদ, নাস্তা কিংবা মিষ্টি—সব জায়গাতেই এর ব্যবহার রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সঙ্গে মাশরুমের ব্যবহার বাড়ালে খাবারের পুষ্টিগুণ আরও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে খাদ্যবর্জ্যকে ছত্রাকের মাধ্যমে রূপান্তর করে উচ্চমানের প্রোটিন ও ভিটামিন তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে একদিকে যেমন অপচয় কমবে, অন্যদিকে বাড়বে খাদ্যের জোগানও।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পৃথিবীতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।