ঢাকা, ৯ মার্চ — মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার সোমবার থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঈদুল ফিতরের ছুটি আগাম ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য। কর্মকর্তাদের মতে, এতে একদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমবে, অন্যদিকে যানজট কমে যাওয়ায় জ্বালানির অপচয়ও কমবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ
কর্মকর্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবাসিক হল, শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। তাই আগাম বন্ধ ঘোষণা করলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে তা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
রমজান মাস উপলক্ষে বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলো আগেই বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন এই সময়ের মধ্যে বন্ধ থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পরিস্থিতির মধ্যে আতঙ্কে অনেক মানুষ অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা ও মজুত করতে শুরু করলে সরকার গত শুক্রবার প্রতিদিন নির্দিষ্ট সীমার বেশি জ্বালানি বিক্রি না করার নির্দেশ দেয়।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অতিরিক্ত পদক্ষেপ
জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সরকার বিদেশি পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুল এবং বেসরকারি কোচিং সেন্টারগুলোকেও এই সময়ের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলেছে, যাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করা যায়।
গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার মধ্যে চারটির কার্যক্রম ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে এসব কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা
সরবরাহ ঘাটতি পূরণ করতে বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে অনেক বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনেছে। পাশাপাশি ঘাটতি পূরণে আরও জ্বালানি কার্গো সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং আমদানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি এবং ব্যবহারের পরিমাণ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















