মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সংঘাতের প্রভাব বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করেই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহন রুটে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। এরই প্রভাবে তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা যাচ্ছে।
দ্রুত বাড়ছে বৈশ্বিক তেলের দাম
সোমবার লেনদেন শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের বেশি উঠে যায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় এর দাম ছিল প্রায় ৯২ ডলার।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড পশ্চিম টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ১১৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। শুক্রবারের তুলনায় এটি প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

যুদ্ধের বিস্তার বাড়াচ্ছে সংকট
যুদ্ধ পরিস্থিতি বিস্তৃত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাহরাইন অভিযোগ করেছে, ইরানের হামলায় একটি লবণমুক্ত পানি উৎপাদন কেন্দ্র আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, যা দেশটির পানীয় জলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে ইসরায়েলের রাতভর হামলায় তেহরানের কয়েকটি তেল সংরক্ষণাগারে আগুন লাগার ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব হামলা জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ প্রতিদিন হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে যায়, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ।

তবে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল অনেকটাই থেমে গেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
উৎপাদন কমাচ্ছে বড় তেল উৎপাদক দেশ
ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় উৎপাদক দেশগুলোও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। এতে অনেক স্থানে সংরক্ষণাগার দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে পড়েছে বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা। ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের ঘাটতির আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা
তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই সূচক সোমবারের শুরুতেই সাত শতাংশের বেশি পড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি খরচ বাড়ছে। দেশটিতে এক গ্যালন পেট্রলের দাম এক সপ্তাহে প্রায় ৪৭ সেন্ট বেড়ে ৩.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















