রাজধানীতে সাংবাদিকদের ওপর পৃথক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দুটি সাংবাদিক সংগঠন। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা কেবল ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি আঘাত—এমন মন্তব্য করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।
প্রসূন আশীষের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা
বাংলাদেশ সচিবালয় রিপোর্টার্স ফোরাম প্রসূন আশীষের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি মাসুদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক উবাইদুল্লাহ বাদল এক বিবৃতিতে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে অফিসে ফেরার পথে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এসব ঘটনা সংবাদপেশার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছে।
প্রসূন আশীষ জানান, রোববার বিকেলে সচিবালয় থেকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে তিনি অফিসে ফিরছিলেন। সে সময় বিদ্যুৎ ভবনের সামনে যানবাহনের সিগন্যালে সময় সংবাদ প্রতিষ্ঠানের গাড়ি থামানো ছিল।
সবুজ সিগন্যাল জ্বলে ওঠার পর গাড়ি চলতে শুরু করলে হঠাৎ এক ট্রাফিক সার্জেন্ট আবারও গাড়িটি থামান। গাড়ির চালক হর্ন দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই সময় এক পথচারী মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করতে শুরু করেন। ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে গেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংগঠক সাজিব হাসান নামে একজন লোকজন জড়ো করে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রসূন আশীষ ও সময় সংবাদের জ্যেষ্ঠ ভিডিও সাংবাদিক আমিনুর রহমান হামলার শিকার হন।

কামরুল হাসানের ওপর হামলা ও ছিনতাই
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও রাজধানীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি দৈনিক সমকালের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কামরুল হাসান এবং সময় টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি প্রসূন আশীষের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
কামরুল হাসান জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি মোটরসাইকেলে করে কার্যালয় থেকে তেজগাঁওয়ে সমকাল অফিসে যাচ্ছিলেন।
সেগুনবাগিচায় মহাহিসাব নিরীক্ষক দপ্তরের দক্ষিণ ফটকের কাছে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে মারধর করে। হামলাকারীরা তার পকেট থেকে প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে একটি বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যার নাম ছিল ‘সোবহান আল্লাহ’। হামলাকারীরা ওই বাসের কর্মীদের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা বলেছেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় যেন নিরাপদে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তারা বলেন, দ্রুত তদন্ত করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















