০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের নিয়ম, ইরান–মার্কিন পাল্টা আঘাতে নতুন বাস্তবতা সংকটের ছায়ায় সবজির দাম বাড়লেও আশ্বস্ত করছে কর্তৃপক্ষ, বাজারে সরবরাহ বাড়ছে দ্রুত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ঘিরে বৃহস্পতিবার ঢাকার কয়েক এলাকায় ট্রাফিক পরিবর্তন রান্নাঘরের ফল-সবজি নষ্ট হওয়ার আগে কীভাবে রাখবেন তাজা: অপচয় কমানোর সহজ উপায় জ্বালানি সরবরাহে নতুন নির্দেশনা, বিভাগীয় শহরে কাটছাঁট কমাল বিপিসি প্রথম ধাপে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ৬ বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক ভারতে গ্যাস সংকটের ধাক্কা: এলপিজি সরবরাহ কমে বন্ধের মুখে বহু রেস্তোরাঁ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথমবার ওষুধ-প্রতিরোধী ম্যালেরিয়া শনাক্তে গবেষণা শুরু মুসলিম বিশ্বকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘাঁটির তথ্য দিতে আহ্বান ইরানের ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রক্তাক্ত বাস্তবতা: অপরাধের ঢেউয়ে নিরাপত্তাহীন এক সম্প্রদায়

ডলারের দাম বেড়ছে, স্থিতিশীল বাজারে নতুন চাপ

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশের ডলার বাজারে হঠাৎ দর বেড়েছে। এতদিন বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ব্যাংকগুলো যেখানে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৫ থেকে ৩৫ পয়সায় কিনছিল, সেখানে গতকাল দর বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক বাজার এবং খোলাবাজারেও ডলারের মূল্য বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম এলসি পরিশোধের চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

আন্তঃব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের নতুন দর

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা ৫৫ পয়সায়। আগের দিন এর দর ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

অন্যদিকে খোলাবাজারেও নগদ ডলারের দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দর বাড়তে শুরু করেছে। ডলারের মূল্য বাড়লে আমদানির খরচ বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে পণ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির ওপর।

ডলারের দর বৃদ্ধি, আমদানি নির্ভর পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি

ঈদের ছুটি ও এলসি পরিশোধের চাপ

ব্যাংকারদের মতে, সামনে ঈদের দীর্ঘ ছুটি থাকায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ব্যাংকগুলো টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে। নিয়ম অনুযায়ী, ছুটির সময়ের এলসি দায় আগেই পরিশোধ করতে হয়। ফলে ব্যাংকগুলো এখন আগাম ডলার সংগ্রহ করছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, আগামী দশ দিনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। ছুটির আগে এসব পরিশোধ সম্পন্ন করতে গিয়ে অনেক ব্যাংক প্রয়োজনীয় ডলার ধরে রাখছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা সামগ্রিকভাবে ডলার বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও রেমিট্যান্সের অনিশ্চয়তা

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় শিল্পকারখানা ও ব্যাংক শাখা বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলগুলো থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ সাময়িকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে এখনো রেমিট্যান্স প্রবাহে উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় আছে। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে অনেক প্রবাসী অতিরিক্ত অর্থ পাঠাচ্ছেন। আবার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কেউ কেউ সঞ্চিত অর্থও দেশে পাঠাচ্ছেন। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অবশেষে কমল ডলারের দাম, স্থিতিশীল হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার

ডলার বাজারের পেছনের দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষাপট

২০২১ সালের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের দাম প্রায় ৮৪ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু করোনা-পরবর্তী সময় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের কারণে ধীরে ধীরে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই তা প্রায় ১২২ টাকায় পৌঁছে যায়।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থ পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা এবং হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যায়। এর ফলে আমদানি ৫ শতাংশ বাড়া এবং রপ্তানি ১ শতাংশ কমা সত্ত্বেও ডলার বাজার দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল ছিল।

রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের প্রথম সাত দিনে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ১০৭ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় দুই হাজার ৩৫২ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল এক হাজার ৯২৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪২৬ কোটি ডলার বা প্রায় ২২ দশমিক ১১ শতাংশ। গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে প্রায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। মূলত এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণেই এতদিন ডলার বাজার স্থিতিশীল ছিল।

বাজারে অস্থিরতার ঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রভাব

আরও ৪ বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের | The Business Standard

ব্যাংকারদের মতে, সোমবার দিনের শুরুতে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৪০ থেকে ৪৫ পয়সায় বিক্রি করছিল। কিন্তু দুপুরের পর তা বেড়ে ১২২ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছে যায়। সংকটে থাকা কয়েকটি ব্যাংক ১২৩ টাকা দরে রেমিট্যান্সও কিনেছে।

ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ডলারের দর যদি দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে তা মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ডলারের দাম বাড়তে পারে—এমন ধারণা বাজারে ছড়িয়ে পড়লে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো ডলার ধরে রেখে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করতে পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

রিজার্ভ পরিস্থিতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান

ব্যাংকাররা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কিছু বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস ডলারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে তখনকার গভর্নরের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তা সফল হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করেনি। ফলে রিজার্ভ কমার প্রবণতা উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে রিজার্ভে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের নিয়ম, ইরান–মার্কিন পাল্টা আঘাতে নতুন বাস্তবতা

ডলারের দাম বেড়ছে, স্থিতিশীল বাজারে নতুন চাপ

০৩:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশের ডলার বাজারে হঠাৎ দর বেড়েছে। এতদিন বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ব্যাংকগুলো যেখানে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৫ থেকে ৩৫ পয়সায় কিনছিল, সেখানে গতকাল দর বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক বাজার এবং খোলাবাজারেও ডলারের মূল্য বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম এলসি পরিশোধের চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

আন্তঃব্যাংক ও খোলাবাজারে ডলারের নতুন দর

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা ৫৫ পয়সায়। আগের দিন এর দর ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

অন্যদিকে খোলাবাজারেও নগদ ডলারের দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দর বাড়তে শুরু করেছে। ডলারের মূল্য বাড়লে আমদানির খরচ বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে পণ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতির ওপর।

ডলারের দর বৃদ্ধি, আমদানি নির্ভর পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি

ঈদের ছুটি ও এলসি পরিশোধের চাপ

ব্যাংকারদের মতে, সামনে ঈদের দীর্ঘ ছুটি থাকায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ব্যাংকগুলো টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে। নিয়ম অনুযায়ী, ছুটির সময়ের এলসি দায় আগেই পরিশোধ করতে হয়। ফলে ব্যাংকগুলো এখন আগাম ডলার সংগ্রহ করছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান জানান, আগামী দশ দিনের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক পরিশোধ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। ছুটির আগে এসব পরিশোধ সম্পন্ন করতে গিয়ে অনেক ব্যাংক প্রয়োজনীয় ডলার ধরে রাখছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা সামগ্রিকভাবে ডলার বাজারে চাপ তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও রেমিট্যান্সের অনিশ্চয়তা

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় শিল্পকারখানা ও ব্যাংক শাখা বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলগুলো থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ সাময়িকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে এখনো রেমিট্যান্স প্রবাহে উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় আছে। রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে অনেক প্রবাসী অতিরিক্ত অর্থ পাঠাচ্ছেন। আবার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে কেউ কেউ সঞ্চিত অর্থও দেশে পাঠাচ্ছেন। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অবশেষে কমল ডলারের দাম, স্থিতিশীল হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার

ডলার বাজারের পেছনের দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষাপট

২০২১ সালের আগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের দাম প্রায় ৮৪ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু করোনা-পরবর্তী সময় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবের কারণে ধীরে ধীরে ডলারের দাম বাড়তে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই তা প্রায় ১২২ টাকায় পৌঁছে যায়।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থ পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা এবং হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যায়। এর ফলে আমদানি ৫ শতাংশ বাড়া এবং রপ্তানি ১ শতাংশ কমা সত্ত্বেও ডলার বাজার দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল ছিল।

রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের প্রথম সাত দিনে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ১০৭ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় দুই হাজার ৩৫২ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল এক হাজার ৯২৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪২৬ কোটি ডলার বা প্রায় ২২ দশমিক ১১ শতাংশ। গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে প্রায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। মূলত এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণেই এতদিন ডলার বাজার স্থিতিশীল ছিল।

বাজারে অস্থিরতার ঝুঁকি ও সম্ভাব্য প্রভাব

আরও ৪ বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের | The Business Standard

ব্যাংকারদের মতে, সোমবার দিনের শুরুতে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৪০ থেকে ৪৫ পয়সায় বিক্রি করছিল। কিন্তু দুপুরের পর তা বেড়ে ১২২ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছে যায়। সংকটে থাকা কয়েকটি ব্যাংক ১২৩ টাকা দরে রেমিট্যান্সও কিনেছে।

ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ডলারের দর যদি দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে তা মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের আন্তর্জাতিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ডলারের দাম বাড়তে পারে—এমন ধারণা বাজারে ছড়িয়ে পড়লে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো ডলার ধরে রেখে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করতে পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে।

রিজার্ভ পরিস্থিতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান

ব্যাংকাররা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কিছু বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস ডলারের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে তখনকার গভর্নরের দৃঢ় অবস্থানের কারণে তা সফল হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করেনি। ফলে রিজার্ভ কমার প্রবণতা উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে রিজার্ভে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।