জার্মানির অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বাডেন-ভুর্টেমবার্গে সাম্প্রতিক রাজ্য নির্বাচনের আগে অর্থনীতি ছিল ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ। তবু চীনের ক্রমবর্ধমান শিল্প প্রতিযোগিতা এবং চাকরি সংকটের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রচারে ‘চীন হুমকি’ প্রায় আলোচনায় আসেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বেইজিংকে সরাসরি দায়ী করার বিষয়ে জার্মান রাজনীতির অনীহারই প্রতিফলন।
চীনের প্রতিযোগিতার চাপের মুখে শিল্পাঞ্চল
বাডেন-ভুর্টেমবার্গকে অনেকেই জার্মানির শিল্পশক্তির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেখেন। এখানে মের্সিডিজ-বেনজসহ বড় বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ঘাঁটি রয়েছে। কিন্তু গত এক বছরে চীনা কোম্পানিগুলো বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত অংশীদারিত্ব বাড়াতে থাকায় এই অঞ্চলে চাকরি কমানোর ঢেউ দেখা গেছে।
জার্মান গণমাধ্যমের কিছু বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে, পরিস্থিতি চলতে থাকলে অঞ্চলটি “জার্মানির ডেট্রয়েট” হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে পড়তে পারে—যেমনটা একসময় মার্কিন গাড়ি শিল্পের শহর ডেট্রয়েটের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল।
নির্বাচনে ফলাফল ও ভোটারদের মনোভাব
গত সপ্তাহান্তে অনুষ্ঠিত বাডেন-ভুর্টেমবার্গ রাজ্য নির্বাচনে লক্ষ লক্ষ ভোটার অংশ নেন। ফলাফলে অল্প ব্যবধানে প্রথম হয় মধ্য-বাম ঘরানার গ্রিন পার্টি। তাদের ঠিক পেছনে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকে মধ্য-ডানপন্থী ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)। আর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)।
জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি ছিল ভোটারদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তবু নির্বাচনী প্রচারণায় চীনের প্রসঙ্গ খুব কমই উঠে এসেছে।
কেন আলোচনায় আসেনি ‘চীন হুমকি’
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দেখায় যে জার্মানি এখনো চীনের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিতে অনিচ্ছুক। ইউরোপের কিছু দেশ—যেমন ফ্রান্স—যেখানে চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বেশি সরব, সেখানে জার্মানির রাজনৈতিক আলোচনায় বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সংযত।
বার্লিনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মারকেটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজের চীন বিশেষজ্ঞ বার্নহার্ড বার্টশ বলেন, জার্মানির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন চীনকে দোষারোপ করা নয়, বরং নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান খোঁজা।
তার ভাষায়, অনেকেই এখন মেনে নিয়েছেন যে চীনের পণ্য অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের জন্য সমস্যার উৎস চীনে বলে তুলে ধরলে তেমন রাজনৈতিক লাভ নেই। কারণ মানুষ এখন বিশ্লেষণ নয়, বাস্তব সমাধান দেখতে চায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















