০৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই থাইল্যান্ডের জাহাজে হরমুজ প্রণালীতে অজ্ঞাত হামলা, নিখোঁজ তিন নাবিক ইরান যুদ্ধে বেসামরিক ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ পোপ লিওর তেলের বাজারে অস্থিরতা: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সুপারিশ আইইএর ইরানে নতুন করে ‘ব্যাপক হামলা’ শুরু করেছে ইসরাইল, একই সঙ্গে বৈরুতেও আঘাত ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের পাশে থাকবে পাকিস্তান

সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের নিয়ম, ইরান–মার্কিন পাল্টা আঘাতে নতুন বাস্তবতা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে সাম্প্রতিক সংঘাতে নতুন এক যুদ্ধের রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন এখন বড় শক্তিগুলোর প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠছে। ইরানের শাহেদ ড্রোনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও তৈরি করেছে অনুরূপ ড্রোন ব্যবস্থা, যা দেখিয়ে দিচ্ছে আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

সস্তা ড্রোনে নতুন যুদ্ধ কৌশল

গত কয়েক বছরে ইরান তৈরি করেছে শাহেদ নামের স্বল্পমূল্যের আত্মঘাতী ড্রোন, যা কয়েকশ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। এই ড্রোনের কার্যকারিতা দেখেই যুক্তরাষ্ট্র গবেষণা করে এর নকশা বিশ্লেষণ করে। এরপর একই ধরনের স্বল্পমূল্যের ড্রোন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়, যার নাম রাখা হয়েছে লুকাস।

সম্প্রতি সংঘাতে এই ড্রোন প্রথমবার ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো এবং প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে এটি ব্যবহার করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা আধুনিক যুদ্ধের একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন শুধু উন্নত ও ব্যয়বহুল অস্ত্র নয়, দ্রুত তৈরি করা যায় এমন সস্তা অস্ত্রও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তুলনামূলক কম খরচে বড় আঘাত

শাহেদ এবং লুকাস—দুই ধরনের ড্রোনের দৈর্ঘ্য প্রায় দশ ফুট এবং ডানার বিস্তার প্রায় আট ফুট। এগুলোর সামনের অংশে বিস্ফোরক বহন করা হয় এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করলেই বিস্ফোরণ ঘটে।

এই ড্রোনের দাম প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার ডলার সমপরিমাণ, যা প্রচলিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম। একটি বড় আক্রমণ চালাতে আগে যেখানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতো, এখন একই কাজ করা যাচ্ছে অনেক কম খরচে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত উৎপাদন, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার এবং নির্ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ প্রযুক্তি এই ড্রোন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলছে।

প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক উদ্ভাবনের ভূমিকা

এই নতুন ড্রোন ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ছোট প্রযুক্তি উদ্যোগগুলো দ্রুত নতুন অস্ত্রের নকশা তৈরি করতে পারছে। ফলে দীর্ঘদিনের জটিল সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়েও দ্রুত নতুন অস্ত্র ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হলে এগুলো আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। তখন অনেক ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ ও আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে।

ড্রোন হামলায় আতঙ্ক মধ্যপ্রাচ্যে

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানি ড্রোনের আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে উঁচু ভবন, বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিস্ফোরণের দৃশ্য।

এ ধরনের হামলার ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বহু পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী আটকে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন হামলার একটি বড় উদ্দেশ্য শুধু সামরিক ক্ষতি নয়, বরং আতঙ্ক সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় আঘাত হানা।

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শেখা অভিজ্ঞতা

ড্রোন যুদ্ধের কৌশল অনেকাংশেই গড়ে উঠেছে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে। সেখানে শাহেদ ড্রোনের ঝাঁক আক্রমণ এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে সতর্কবার্তায় এই ড্রোনের আলাদা প্রতীক পর্যন্ত ব্যবহৃত হচ্ছে।

ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেন বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, শব্দ শনাক্ত প্রযুক্তি, মেশিনগান, ইলেকট্রনিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অন্য ড্রোন দিয়ে প্রতিহত করার কৌশল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিজ্ঞতা এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও কাজে লাগানো হচ্ছে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধের ইঙ্গিত

বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতের যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে দ্রুত উদ্ভাবন, সস্তা প্রযুক্তি এবং বিপুল সংখ্যায় অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতার ওপর। একটি দেশ বা ছোট গোষ্ঠীও এখন তুলনামূলক কম খরচে আকাশ হামলার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

এ কারণে বিশ্বজুড়ে সামরিক কৌশলবিদরা মনে করছেন, ড্রোন প্রযুক্তি আগামী দিনের যুদ্ধের চরিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের নিয়ম, ইরান–মার্কিন পাল্টা আঘাতে নতুন বাস্তবতা

০৬:০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে সাম্প্রতিক সংঘাতে নতুন এক যুদ্ধের রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন এখন বড় শক্তিগুলোর প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠছে। ইরানের শাহেদ ড্রোনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও তৈরি করেছে অনুরূপ ড্রোন ব্যবস্থা, যা দেখিয়ে দিচ্ছে আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

সস্তা ড্রোনে নতুন যুদ্ধ কৌশল

গত কয়েক বছরে ইরান তৈরি করেছে শাহেদ নামের স্বল্পমূল্যের আত্মঘাতী ড্রোন, যা কয়েকশ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। এই ড্রোনের কার্যকারিতা দেখেই যুক্তরাষ্ট্র গবেষণা করে এর নকশা বিশ্লেষণ করে। এরপর একই ধরনের স্বল্পমূল্যের ড্রোন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়, যার নাম রাখা হয়েছে লুকাস।

সম্প্রতি সংঘাতে এই ড্রোন প্রথমবার ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো এবং প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে এটি ব্যবহার করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা আধুনিক যুদ্ধের একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন শুধু উন্নত ও ব্যয়বহুল অস্ত্র নয়, দ্রুত তৈরি করা যায় এমন সস্তা অস্ত্রও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তুলনামূলক কম খরচে বড় আঘাত

শাহেদ এবং লুকাস—দুই ধরনের ড্রোনের দৈর্ঘ্য প্রায় দশ ফুট এবং ডানার বিস্তার প্রায় আট ফুট। এগুলোর সামনের অংশে বিস্ফোরক বহন করা হয় এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করলেই বিস্ফোরণ ঘটে।

এই ড্রোনের দাম প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার ডলার সমপরিমাণ, যা প্রচলিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম। একটি বড় আক্রমণ চালাতে আগে যেখানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হতো, এখন একই কাজ করা যাচ্ছে অনেক কম খরচে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত উৎপাদন, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার এবং নির্ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ প্রযুক্তি এই ড্রোন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলছে।

প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক উদ্ভাবনের ভূমিকা

এই নতুন ড্রোন ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ছোট প্রযুক্তি উদ্যোগগুলো দ্রুত নতুন অস্ত্রের নকশা তৈরি করতে পারছে। ফলে দীর্ঘদিনের জটিল সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়েও দ্রুত নতুন অস্ত্র ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ড্রোন প্রযুক্তির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হলে এগুলো আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। তখন অনেক ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ ও আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে।

ড্রোন হামলায় আতঙ্ক মধ্যপ্রাচ্যে

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানি ড্রোনের আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে উঁচু ভবন, বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিস্ফোরণের দৃশ্য।

এ ধরনের হামলার ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বহু পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারী আটকে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন হামলার একটি বড় উদ্দেশ্য শুধু সামরিক ক্ষতি নয়, বরং আতঙ্ক সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় আঘাত হানা।

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শেখা অভিজ্ঞতা

ড্রোন যুদ্ধের কৌশল অনেকাংশেই গড়ে উঠেছে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে। সেখানে শাহেদ ড্রোনের ঝাঁক আক্রমণ এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে সতর্কবার্তায় এই ড্রোনের আলাদা প্রতীক পর্যন্ত ব্যবহৃত হচ্ছে।

ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেন বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, শব্দ শনাক্ত প্রযুক্তি, মেশিনগান, ইলেকট্রনিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অন্য ড্রোন দিয়ে প্রতিহত করার কৌশল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিজ্ঞতা এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও কাজে লাগানো হচ্ছে।

ভবিষ্যতের যুদ্ধের ইঙ্গিত

বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতের যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে দ্রুত উদ্ভাবন, সস্তা প্রযুক্তি এবং বিপুল সংখ্যায় অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতার ওপর। একটি দেশ বা ছোট গোষ্ঠীও এখন তুলনামূলক কম খরচে আকাশ হামলার ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

এ কারণে বিশ্বজুড়ে সামরিক কৌশলবিদরা মনে করছেন, ড্রোন প্রযুক্তি আগামী দিনের যুদ্ধের চরিত্র পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।