মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আগে থেকেই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে এসব আশঙ্কা নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য ড্রোন হামলার সতর্কতা
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে একটি নিরাপত্তা সতর্কবার্তা পাঠায়। সেখানে বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকস্মিক ড্রোন হামলার চেষ্টা করতে পারে।
এই সতর্কবার্তাটি লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সমন্বয় কেন্দ্রের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। এতে বলা হয়, ইরান নৌযান থেকে ড্রোন উড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে—এমন তথ্য গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে।
তবে সতর্কবার্তায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য হামলার সময়, পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তখনও কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে নতুন উত্তেজনা
ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানা যায়।
এরপর থেকেই সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। ইরান পাল্টা হামলা হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেই কুয়েতে একটি ঘাঁটিতে হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরান-সমর্থিত হামলার আশঙ্কা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।
তার সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ছিল, তিনি এমন কোনো হামলার বিষয়ে চিন্তিত নন।

ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের অবস্থান
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো হামলার হুমকির তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের মেয়র ক্যারেন বাসও জানিয়েছেন, শহরের পুলিশ ও প্রশাসন রাজ্য ও ফেডারেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করছে।
তার ভাষায়, এই মুহূর্তে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য হুমকি শনাক্ত হয়নি।

বৃহত্তর সংঘাতের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে লেবাননেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ বাহিনী ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















