যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অবকাঠামোকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শেষ হলে তেহরান আবারও উত্তর কোরিয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান তাদের নতুন করে ঘনিষ্ঠ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য সহযোগিতার পেছনের কারণ
দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করা হয়, উত্তর কোরিয়া ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পরে এই সহযোগিতা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি (কেআইএনইউ)-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক চো হান-বুম বলেন, ইরান এখন ব্যাপক পাল্টা হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভব করছে। এ কারণে যুদ্ধ শেষ হলে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা পুনর্গঠনে দুই দেশের সহযোগিতা আবার শুরু হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারে। কারণ উভয় সরকারই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে।

রাজনৈতিক সমর্থনের ইঙ্গিত
ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচনকে সমর্থন জানিয়েছে। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ যখন মুজতবা খামেনিকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে, তখন উত্তর কোরিয়া প্রকাশ্যে সেই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানায়।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের জনগণ তাদের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের যে অধিকার ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করে। এই বক্তব্য রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রাজনৈতিক সমর্থন দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার আরেকটি ইঙ্গিত, যা ভবিষ্যতে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















