ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ছেড়ে লাখো মানুষ যখন বাড়ির পথে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানো এবং রাজধানীতে যানজট কমিয়ে আনতেই এসব নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের সময় রাজধানী থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজ নিজ জেলায় যাত্রা করেন। সাধারণত এই সময়ে দেড় কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়ে যান এবং প্রায় ৪০ লাখ মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করেন। এই বিশাল যাত্রীচাপ সামাল দিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে আগামী ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরির চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, দ্রুত নষ্ট হওয়া খাদ্যপণ্য, তৈরি পোশাক, ওষুধ, সার ও জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহারে সতর্কতা
১৬ মার্চ থেকে যেসব যানবাহন সরাসরি ঈদযাত্রার সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদের প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যানজট কমাতে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
এই সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে কুড়িল থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, মিরপুর সড়ক হয়ে আরিচা মহাসড়কের আরং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার অংশ, ফুলবাড়িয়া-তাতীবাজার-বাবুবাজা
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের জন্য নির্দেশনা
আন্তঃজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতর থেকেই যাত্রী তুলতে এবং সেখান থেকেই সরাসরি গন্তব্যে যাত্রা করতে বলা হয়েছে। টার্মিনালের বাইরে যাত্রী ওঠানামা করানো বা রাস্তার ওপর বাস দাঁড় করিয়ে রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে বাসগুলোকে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা এবং একই আসনের জন্য একাধিক টিকিট বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ না করার ব্যাপারেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চালকদের জন্য কঠোর সতর্কতা
বাসচালকদের গতি সীমা মেনে চলতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং কিংবা বেপরোয়া গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বাঁক ও সরু সেতুর এলাকায়।
মাদকাসক্ত অবস্থায় বা শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কোনো চালককে একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি বা দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য না করার জন্য যানবাহনের মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রী ও পথচারীদের জন্য পরামর্শ
যাত্রীদের নির্ধারিত কাউন্টার বা টার্মিনাল থেকেই বাসে ওঠার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করতে এবং নিজের জিনিসপত্র সতর্কতার সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাস্তা পার হওয়ার সময় ফুটওভারব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা না করা এবং রাস্তা পার হওয়ার সময় দৌড়ানো বা মোবাইল ফোনে কথা না বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

সবার সহযোগিতা কামনা
ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীতে শৃঙ্খলাপূর্ণ যান চলাচল বজায় রাখতে পরিবহন মালিক, চালক ও নগরবাসীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে টার্মিনালে থাকা পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















