জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় এক পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে দায়েরের জন্য করা মামলার আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত। অভিযোগটি শুনানি ও পর্যালোচনার পর আদালত মামলাটি আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
আদালতের সিদ্ধান্ত
বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালতে এ সংক্রান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার আবেদনটি বিচারকের সামনে উপস্থাপন করা হলে আদালত বিষয়টি শুনে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। পরে বিচারক মামলাটি আমলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে অভিযোগকারীর করা মামলার আবেদন কার্যত খারিজ হয়ে যায়। আদালতের এ সিদ্ধান্তের পর সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
কারা ছিলেন অভিযুক্ত
অভিযোগপত্রে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। তার সঙ্গে আরও মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
মামলার আবেদনকারী জালাল হোসেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার জাংগিরাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুল খালেকের ছেলে। অভিযোগে দাবি করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত এক পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় এসব ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেক্ষাপট
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সেই সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
দায়িত্বে আসিফ মাহমুদ
অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত মামলাটিকে নতুন একটি আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















