মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানপন্থী শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গাজা যুদ্ধের পর বড় ধাক্কা খাওয়ার পরও এই জোট নতুন করে হামলা বাড়িয়ে দেখাতে চাইছে যে তারা এখনও আঞ্চলিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সমন্বিত রকেট ও ড্রোন হামলা
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী প্রথমবারের মতো সমন্বিতভাবে ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করেছে। হিজবুল্লাহ একসঙ্গে দুই শতাধিক রকেট ছোড়ে এবং একই সময়ে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, অধিকাংশ রকেট প্রতিহত করা হয়েছে এবং মাত্র দুটি রকেট ইসরায়েলের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমন্বিত হামলা ইরানের বৃহৎ যুদ্ধ পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যার উদ্দেশ্য ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা।
ইরাকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধি
ইরাকেও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হামলার গতি বাড়িয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার দাবি করা হয়েছে।
ইরাকভিত্তিক একাধিক গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা গত একদিনেই তিন ডজনের কাছাকাছি ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করে একত্রিশটি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল তাদের ভাষায় “দখলদার বাহিনীর ঘাঁটি”।
একই সময়ে দক্ষিণ ইরাকের একটি বড় তেলক্ষেত্রেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।
নতুন নেতৃত্বের বার্তা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে তথাকথিত প্রতিরোধ ফ্রন্টের যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই জোটের দেশগুলো ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আঞ্চলিক সংঘাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এই বক্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক ইরানের পক্ষ থেকে জোটকে সক্রিয় রাখার রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
বড় ধাক্কার পরও সক্রিয় জোট
গাজা যুদ্ধের সূচনার পর থেকে এই জোট বড় ক্ষতির মুখে পড়ে। হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা নিহত হন। একই সময়ে সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনও এই জোটকে আঘাত করে।
তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধাক্কার পরও জোটের মূল শক্তিগুলো এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং প্রয়োজনে আবারও আঞ্চলিক সংঘাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্ভাব্য নতুন উত্তেজনা
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনভিত্তিক হুথি গোষ্ঠী এখনও বড় আকারে এই সংঘাতে প্রবেশ করেনি। কিন্তু তারা যদি সরাসরি হামলা শুরু করে, তবে লোহিত সাগর ও তেল পরিবহন রুটে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















