শুক্রবার পাকিস্তানের বৃহৎ উপকূলীয় শহর করাচিতে হঠাৎ ভূমিকম্পের কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় অনেক মানুষ ঘর ও অফিস ছেড়ে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। যদিও প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবু সাম্প্রতিক সময়ে বারবার ভূকম্পনের ঘটনায় শহরজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
করাচির চার এলাকায় কম্পন অনুভূত
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল করাচি শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রের দিকে এবং গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
শহরের লান্ধি, খুররমাবাদ, মালির ও কোরাঙ্গি এলাকায় কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। অনেক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ মৃদু দোল অনুভূত হওয়ায় তারা নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারবার কম্পন
করাচিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিকবার ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। চলতি মাসের ১০ মার্চ শহরের কয়েকটি এলাকায় ৩ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল, যার গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল থাকার কারণে মাঝেমধ্যে এমন ভূমিকম্প ঘটতে পারে।
পাকিস্তানে অতীতের বড় ভূমিকম্প
এর আগে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ৫ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাকিস্তানের রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চল কেঁপে ওঠে। সেই কম্পনের প্রভাব সুয়াত ও হুনজা এলাকাতেও অনুভূত হয়েছিল এবং শতাধিক বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়।
এরও আগে ২০১৫ সালের শক্তিশালী ভূমিকম্পে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে প্রায় ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আর ২০০৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণ হারান ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে পাকিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















