মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার নতুন অধ্যায়ে এবার সরাসরি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে ঘোষণা দিল যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার শীর্ষ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই তালিকায় রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিসহ মোট দশজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।

আইআরজিসি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, যেসব কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে তারা সবাই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। এই বাহিনী ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী সামরিক সংগঠন, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত হয় এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সরাসরি অনুগত।
ওয়াশিংটনের দাবি, এই বাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত। তাই তাদের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
মোজতবা খামেনি কোথায়?
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন। তবে ওই হামলায় তিনি আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একটি লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করেছেন, যা ছিল হামলার পর তার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।
![]()
তালিকায় আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা
পুরস্কার ঘোষণার তালিকায় শুধু মোজতবা খামেনিই নন, ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি, গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খতিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি এবং খামেনির কার্যালয়ের আরও দুই কর্মকর্তার নাম রয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে গোপনে অবস্থান করছে। যদিও সাম্প্রতিক এক সমাবেশে আলি লারিজানিকে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দেখা গেছে।
ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র বহু আগেই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই বাহিনীর কর্মকাণ্ডে অতীতে মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছে।
এছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে তেহরান।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি ও নিষেধাজ্ঞা জারি করার অজুহাত তৈরি করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















