ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশে মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যই নিহত হন।
সামরিক কর্মকর্তারা বলেছেন, দুর্ঘটনার সময় আরেকটি সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান কাছাকাছি ছিল। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, ঘটনাটি শত্রু হামলা বা মিত্র বাহিনীর গুলিবর্ষণের কারণে ঘটেনি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক ঝুঁকি
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া অভিযানের পর ইতিমধ্যে আরও সাতজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমান মোতায়েন করেছে। আকাশে যুদ্ধবিমানগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ করার জন্য এই ধরনের বিশেষ বিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আকাশে জ্বালানি সরবরাহের মতো জটিল অভিযানে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেশি থাকে।
আকাশে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
দুর্ঘটনায় জড়িত বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত জ্বালানি সরবরাহকারী বহরের অংশ। এই ধরনের বিমান যুদ্ধবিমানকে আকাশেই জ্বালানি দিয়ে দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর সুযোগ করে দেয়, ফলে তাদের মাটিতে নেমে জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা আধুনিক সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আকাশে সমন্বয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জটিল একটি কাজ।

সংঘাতের প্রভাব বাড়ছে
এদিকে ইরান সমর্থিত একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা মার্কিন সামরিক বিমানটি ভূপাতিত করেছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী বলছে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক মার্কিন সেনা আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই নৌসেনাও আহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত আরও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















