যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপের পথে হাঁটছে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গরাজ্য। হাসপাতাল কত টাকা পর্যন্ত রোগীদের কাছ থেকে নিতে পারবে—সেই সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাস্থ্যনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
কেন বাড়ছে হাসপাতালের খরচ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ কর্মক্ষেত্রভিত্তিক বাণিজ্যিক স্বাস্থ্যবিমার আওতায় চিকিৎসা পান। সাধারণত হাসপাতাল ও বিমা কোম্পানির মধ্যে দরকষাকষির মাধ্যমে চিকিৎসা খরচ নির্ধারিত হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।
দুই হাজার সাল থেকে হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ প্রায় দুই শত পঞ্চাশ শতাংশ বেড়েছে। যা সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যয়ের বৃদ্ধির দ্বিগুণ এবং সাধারণ মূল্যস্ফীতির তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই হাসপাতাল খাতে ব্যয় হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যব্যয়ের এত বেশি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণই হলো হাসপাতালের অতিরিক্ত মূল্য।

প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ার প্রভাব
বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে হাসপাতালের মধ্যে প্রতিযোগিতা দ্রুত কমে যাচ্ছে। দুই হাজার তেইশ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক বড় শহরে মাত্র একটি বা দুটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুরো হাসপাতাল সেবার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
এই একচেটিয়া প্রভাবের ফলে দাম বাড়ছে, অথচ সেবার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারি সীমা নির্ধারণই হয়তো এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
দুই অঙ্গরাজ্যের ভিন্ন পথ
একটি অঙ্গরাজ্য তুলনামূলকভাবে সীমিত পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। সেখানে অলাভজনক হাসপাতালগুলোকে দুই হাজার উনত্রিশ সালের মধ্যে তাদের চিকিৎসা খরচ রাজ্য গড়ের নিচে নামাতে হবে। তা না হলে তারা করমুক্ত মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব হতে পারে।
অন্য অঙ্গরাজ্য আরও সরাসরি পদ্ধতি নিয়েছে। সেখানে প্রতিটি চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য হাসপাতাল কত টাকা নিতে পারবে, তা বয়স্কদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির নির্ধারিত দামের একটি নির্দিষ্ট গুণফল হিসেবে বেঁধে দেওয়া হবে।
সীমা কত রাখা হবে তার ওপর নির্ভর করে বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলার থেকে শুরু করে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতালগুলোর উদ্বেগ
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয়। তাদের মতে, বিভিন্ন হাসপাতালের খরচ কাঠামো ভিন্ন হওয়ায় গড় মূল্য নির্ধারণ করা সহজ নয়।
এছাড়া সীমা খুব কম নির্ধারণ করা হলে কিছু হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, মূল্যসীমা নির্ধারণ করলে উদ্ভাবন কমে যেতে পারে বা হাসপাতালগুলো সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্য অঙ্গরাজ্যের নজর
এই উদ্যোগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে হাসপাতালের খরচ নিয়ন্ত্রণে একই ধরনের আইন প্রস্তাব জমা পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যনীতি বদলে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















