ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এমন যানবাহন রাস্তায় পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
ফিটনেসবিহীন বাস চললে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ সরওয়ার স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ফিটনেসবিহীন বাস সড়কে চলতে দেওয়া হবে না। এমন যানবাহন পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পুরোনো বা জরাজীর্ণ বাস চললে ব্যস্ত সড়কে যেকোনো সময় বিকল হয়ে বড় ধরনের যানজট তৈরি হতে পারে। তাই পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের এমন বাস রাস্তায় না নামানোর আহ্বান জানান তিনি।
ছাদে যাত্রী পরিবহন ও বেপরোয়া গতি নিষিদ্ধ
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ রাখতে বাসের ছাদে যাত্রী বহন, অতিরিক্ত গতি এবং অসুস্থ বা অযোগ্য চালকের মাধ্যমে গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য বড় বাস টার্মিনালগুলোতে সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে ভাড়ার তালিকা ও বাস চলাচলের সময়সূচি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক থাকবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট কালোবাজারি বা যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ ও বাড়তি নিরাপত্তা
ঈদকে ঘিরে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে অতিরিক্ত আটশ থেকে নয়শ ট্রাফিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্য, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট, বিশেষ অভিযানের দল এবং কুকুর স্কোয়াডও দায়িত্ব পালন করবে।
এ ছাড়া সড়ক আইন কার্যকর রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় থাকবে।
ঈদের আগে রাজধানী ছাড়বেন কোটি মানুষ
সরকার ১৮ মার্চ অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় রাজধানী ছাড়ার চাপ কিছুটা ভাগ হয়ে যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। ধারণা করা হচ্ছে, ১৬ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় পনের থেকে বিশ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়তে পারেন। সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে এক কোটিরও বেশি মানুষ রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করবেন।
একই সময়ে প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ লাখ মানুষ রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহাসড়কে পণ্যবাহী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ
যানজট কমাতে ঈদের আগে ও পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মহাসড়কে ট্রাক, লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল সীমিত রাখা হবে। ব্যস্ত সময়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে অপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকও মহাসড়কে উঠতে পারবে না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেন, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে পুলিশ, পরিবহন মালিক, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















