রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রসহ এক যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি একটি সক্রিয় স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চোরাই পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজ করতেন। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটিরও বেশি টাকা।
সন্দেহজনক আচরণে ধরা পড়লেন যুবক
শনিবার সকালে বিমানবন্দরের আগমন গেটের বাইরে আগমন ছাউনি–১ এলাকার সড়কে দায়িত্ব পালন করছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে হঠাৎ পালানোর চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। পরিস্থিতি দেখে সদস্যরা তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম রুসেল আহমেদ, বয়স প্রায় ৩০ বছর।
ব্যাগে মিলল স্বর্ণালঙ্কার ও দামি যন্ত্র
আটকের পর তাকে দপ্তরে নিয়ে গিয়ে তার কাঁধে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে ৪৯৮ দশমিক ৩ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং তিনটি ল্যাপটপ। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মান ২১ থেকে ২২ ক্যারেট বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উদ্ধার হওয়া এসব স্বর্ণালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মোট বাজারমূল্য আনুমানিক এক কোটি ছয় লাখ টাকারও বেশি বলে জানানো হয়েছে।
বিদেশ থেকে আনা চোরাই পণ্যের যোগসূত্র
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কিছু অজ্ঞাত যাত্রী শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব স্বর্ণালঙ্কার ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র দেশে নিয়ে আসতেন। পরে সেগুলো বিমানবন্দরের বাইরে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট চক্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তার ওপর।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক একটি সংগঠিত স্বর্ণ চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত ছিলেন এবং চোরাই পণ্যের গ্রহণকারী হিসেবে কাজ করতেন।
চোরাচালান ঠেকাতে বাড়ছে নজরদারি
ঘটনার পর আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দর এলাকায় স্বর্ণ, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















