ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছাড়ার আগে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র অরক্ষিত অবস্থায় না রেখে আত্মীয়স্বজনের বাসায় রেখে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। আর রাজধানীতে যাদের আত্মীয়স্বজন নেই, তারা চাইলে এসব মূল্যবান জিনিস থানায় রেখে যেতে পারবেন বলেও জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরামর্শ দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সময় অপরাধীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই নগরবাসীকে আগে থেকেই সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঈদে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা
পুলিশ জানায়, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগরবাসী যেন নিরাপদ ও নির্ভাবনায় ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আবাসিক এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা এবং কূটনৈতিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। অপরাধীরা যাতে ফাঁকা বাসাবাড়ির সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত মোবাইল টহলও জোরদার করা হয়েছে।
বাসা ছাড়ার আগে যেসব বিষয়ে সতর্কতা
পুলিশ নগরবাসীকে বাসা বা ফ্ল্যাট ছাড়ার আগে দরজা ও জানালা ঠিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বাসার আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপন বা পুরোনো ক্যামেরা সচল করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। ছুটির সময় এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধি চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানাতেও বলা হয়েছে।
অপরাধ দমনে অভিযান জোরদার
পুলিশ জানায়, রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। রাতের ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাজধানীজুড়ে প্রতিদিন তিন শতাধিক মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে মোবাইল টহল চলছে। পাশাপাশি রাতের বেলায় সত্তরের বেশি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
ঈদযাত্রায় যাত্রী নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাত্রী হয়রানি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে।
রোজার সময় নগরবাসী যাতে সময়মতো বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত ছয় শতাধিক ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ঈদের সময় রাস্তায় নজরদারি বাড়বে
পুলিশ জানিয়েছে, ঈদের দিন থেকে পরবর্তী কয়েকদিন রাজধানীর কিছু এলাকায় দ্রুতগতির গাড়ি চালানো ও রেসিং বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, বনানী থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং গুলশান এলাকায় নজরদারি থাকবে বেশি।
পুলিশের মতে, ঈদের ছুটিতে ঢাকায় বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে পড়লে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই নগরবাসীর সামান্য সতর্কতাই বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















