ঢাকার সাভারের ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং নিহত ছাত্রীর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত লাশ
নিহত ছাত্রীর নাম শারমিন জাহান। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বামী ফাহিম আল হাসানের সঙ্গে সাভারের ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
রবিবার বিকেলে ওই বাসা থেকেই তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বিকেলে বাসায় ফিরে শারমিনকে শয়নকক্ষের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার স্বামী।

হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারমিন জাহানকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বিকেল প্রায় সোয়া পাঁচটার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

মাথায় আঘাতের চিহ্ন
নিহতের স্বামীর বক্তব্য অনুযায়ী, দুপুর দুইটা থেকে তিনটার মধ্যে তিনি বাসায় ফিরে দেখেন প্রধান দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। পরে অন্যভাবে ঘরে ঢুকে শয়নকক্ষে গিয়ে তিনি শারমিনকে রক্তাক্ত ও নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এই অবস্থায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রাথমিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য নিহত ছাত্রীর স্বামীকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সব তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















