০২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

সভ্যতার প্রথম ৪ হাজার বছর ধরে কোনো রাজা ছিল না

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মার্চ ২০২৪
  • 201

খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী

দলমুক্ত লোকাল গভর্ণমেন্ট ও সমাজকে বাঁচিয়ে রাখা লিখাটির পেছনের চিন্তা ভাল লেগেছে।

সেদিন একটি খবর চোখে পড়ল, নাটোরের হুলহুলিয়া গ্রামে ২০০ বছর ধরে সামাজিক নেতৃত্ব চলছে, নিজস্বভাবে সুন্দর একটি সমাজ ব্যবস্থা চলছে সেখানে। ২০০ বছর ধরে সেখানে কোন পুলিশ যেতে হয় নি, কোনো অন্যায়ের জন্য সরকারের আদালতে যেতে হয় নি। নিজেরাই সমাধান করে নিয়েছেন।

কিছুদিন আগে একজন বৃটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক এর TED talk এ জানলাম ১১০০০ বছর আগে মানবজাতি বসতি গড়ে তোলার পর প্রায় ৪০০০ বছর ধরে কোনো রাজা বা কেন্দ্রীয় আইন ব্যবস্থা ছিল না। মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতের হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতেও তাই ছিল। এসব জায়গায় রাজরাজড়াদের কোনো প্রাসাদ ছিল না, সব বাড়িগুলো একইরকম ছিল, তা থেকেই এ ধারণা এসেছে।

আমি মনে করি উপরের দুটি উদাহরণই সমবায় বা কো-অপারেশন ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার সফলতার কথা বলছে।

আমি মনে করি ব্যক্তি মানুষের সুস্থ ও সুন্দর দিকগুলো, অর্থাৎ সহানুভুতি, পরোপোকারের মানসিকতাকে যে সামাজিক ব্যবস্থা তুলে ধরে, সে ধরণের ব্যবস্থায় আমাদের যেতে হবে। চলমান ‘গভর্ণমেন্ট’, ‘ডেমোক্রেসি’, ‘ইকনোমিক্স’ সবই মানুষের উলটোদিক, অর্থাৎ, স্বার্থপরতা, দুর্বলকে ঠকিয়ে নিজে বড় হওয়া, এসবকেই লালন করে। এসব বিষয়ে গত কয়েক হাজার বছরের মানুষের চিন্তা ধারার ভুলগুলো সম্মিলিত হয়ে এখন পুরো পৃথিবীকেই গ্রাস করে ফেলছে, সামনে আলো দেখতে পারছিনা যেন।

আমার মনে হয়, চলমান তিনটি বিষয় নিয়েই আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। গা ঝাড়া দিয়ে আমাদের গতানুগতিক চিন্তাভাবনার যে বৃত্ত আমরা তৈরি করেছি তার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে দশ বছর আগে আমার কিছু চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছিলাম ‘বৃত্তেরবাইরে’ নামে আমার একটি ব্লগে। কিছু কিছু পরিমার্জন সহ এ চিন্তাগুলো নিয়ে এখনও ভাবা দরকার বলে আমি মনে করি।

খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী

বিজ্ঞানী এবং উদ্ভাবক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

সভ্যতার প্রথম ৪ হাজার বছর ধরে কোনো রাজা ছিল না

০৮:০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মার্চ ২০২৪

খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী

দলমুক্ত লোকাল গভর্ণমেন্ট ও সমাজকে বাঁচিয়ে রাখা লিখাটির পেছনের চিন্তা ভাল লেগেছে।

সেদিন একটি খবর চোখে পড়ল, নাটোরের হুলহুলিয়া গ্রামে ২০০ বছর ধরে সামাজিক নেতৃত্ব চলছে, নিজস্বভাবে সুন্দর একটি সমাজ ব্যবস্থা চলছে সেখানে। ২০০ বছর ধরে সেখানে কোন পুলিশ যেতে হয় নি, কোনো অন্যায়ের জন্য সরকারের আদালতে যেতে হয় নি। নিজেরাই সমাধান করে নিয়েছেন।

কিছুদিন আগে একজন বৃটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক এর TED talk এ জানলাম ১১০০০ বছর আগে মানবজাতি বসতি গড়ে তোলার পর প্রায় ৪০০০ বছর ধরে কোনো রাজা বা কেন্দ্রীয় আইন ব্যবস্থা ছিল না। মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতের হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতেও তাই ছিল। এসব জায়গায় রাজরাজড়াদের কোনো প্রাসাদ ছিল না, সব বাড়িগুলো একইরকম ছিল, তা থেকেই এ ধারণা এসেছে।

আমি মনে করি উপরের দুটি উদাহরণই সমবায় বা কো-অপারেশন ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার সফলতার কথা বলছে।

আমি মনে করি ব্যক্তি মানুষের সুস্থ ও সুন্দর দিকগুলো, অর্থাৎ সহানুভুতি, পরোপোকারের মানসিকতাকে যে সামাজিক ব্যবস্থা তুলে ধরে, সে ধরণের ব্যবস্থায় আমাদের যেতে হবে। চলমান ‘গভর্ণমেন্ট’, ‘ডেমোক্রেসি’, ‘ইকনোমিক্স’ সবই মানুষের উলটোদিক, অর্থাৎ, স্বার্থপরতা, দুর্বলকে ঠকিয়ে নিজে বড় হওয়া, এসবকেই লালন করে। এসব বিষয়ে গত কয়েক হাজার বছরের মানুষের চিন্তা ধারার ভুলগুলো সম্মিলিত হয়ে এখন পুরো পৃথিবীকেই গ্রাস করে ফেলছে, সামনে আলো দেখতে পারছিনা যেন।

আমার মনে হয়, চলমান তিনটি বিষয় নিয়েই আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। গা ঝাড়া দিয়ে আমাদের গতানুগতিক চিন্তাভাবনার যে বৃত্ত আমরা তৈরি করেছি তার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে দশ বছর আগে আমার কিছু চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছিলাম ‘বৃত্তেরবাইরে’ নামে আমার একটি ব্লগে। কিছু কিছু পরিমার্জন সহ এ চিন্তাগুলো নিয়ে এখনও ভাবা দরকার বলে আমি মনে করি।

খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী

বিজ্ঞানী এবং উদ্ভাবক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা।