০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত আর্কটিকের বরফে হারিয়ে যাওয়া জাহাজের রহস্যে নতুন মোড়, ১৮০ বছর পর শনাক্ত তিন নাবিক এআই চিপের জোয়ারে ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও বাড়ছে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট ভারতে কমিউনিস্ট রাজনীতির পতন, শেষ দুর্গ হারিয়ে নতুন সংকটে বামপন্থীরা রাশিয়া থেকে ৫ লাখ টনের বেশি এমওপি সার আমদানি করবে বাংলাদেশ শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রস্তুত ঐতিহাসিক ঈদগাহ ঢাকায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ঈদ প্রস্তুতিতে ভোগান্তি বাড়ছে হামে ভয়াবহতা বাড়ছেই, আরও ১০ শিশুর মৃত্যু যুদ্ধ যখন যন্ত্রের গতিতে, রাজনীতি কি তখনও মানুষের থাকবে

তেলের অচলাবস্থায় খুলনা, ডিপো থেকে উত্তোলন বন্ধে ১৫ জেলায় পাম্পে তীব্র সংকট

খুলনায় জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ট্যাংক-লরি মালিক ও চালকরা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখায় খুলনা অঞ্চল ও আশপাশের ১৫ জেলার পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক পাম্প তেলশূন্য হয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।

তেল উত্তোলন বন্ধ থাকায় শনিবারের পর রবিবার সকাল থেকেও একই পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে পাম্প মালিক—সবাই পড়েছেন ভোগান্তিতে।

চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান

খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক-লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু জানান, খুলনা বিভাগ এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ১৫ জেলায় প্রতিদিন অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা প্রায় ৩৬ লাখ লিটার।

কিন্তু খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র প্রায় সাড়ে ১০ লাখ লিটার। চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় ট্যাংক-লরি মালিক ও চালকরা প্রতিবাদ হিসেবে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি রবিবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে।

খুলনার তিন ডিপো থেকে স্বেচ্ছায় জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ

ডিপো সিন্ডিকেটের অভিযোগ

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল করিম অভিযোগ করেন, তিনটি ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকলেও সিন্ডিকেট করে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি ট্যাংক-লরির ধারণক্ষমতা সাধারণত ৯ হাজার থেকে ২২ হাজার লিটার পর্যন্ত হয়। কিন্তু সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ হাজার থেকে ৪ হাজার লিটার তেল। এতে করে গাড়ি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে পাম্পগুলোতে ভোক্তাদের চাপও বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে পাম্প মালিকদের মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

পাম্পগুলোতে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে তেল

খুলনা নিউ মার্কেট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, শনিবার থেকেই পাম্প মালিকরা তেল পাচ্ছেন না। প্রতিদিন একটি পাম্পে প্রায় তিন হাজার লিটার অকটেন এবং তিন হাজার লিটার ডিজেল দেওয়া হয়। এছাড়া একদিন পরপর তিন হাজার লিটার পেট্রোল দেওয়া হয়।

কিন্তু এই সীমিত সরবরাহ সন্ধ্যার আগেই শেষ হয়ে যায়। রবিবার সকালে তাদের পাম্প সম্পূর্ণ তেলশূন্য হয়ে পড়ে।

খুলনায় ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ « বাংলাখবর প্রতিদিন

ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ছে

নগরীর ফেরিঘাট এলাকার একটি পাম্পের মালিক কাজী মাসুদুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছু তেল সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় আর দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

কেসিসি পাম্পের সুপারভাইজার মুজিবুর রহমান বলেন, রবিবারও কোনো তেল সরবরাহ পাওয়া যায়নি। ফলে পাম্পের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। সমস্যার সমাধান না হলে দ্রুত তেল পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

প্রশাসনের অবস্থান

খুলনার জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

তিনি জানান, বাস্তবে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্টারনেট ফিরলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণে ইরান, যোগাযোগে ভোগান্তি অব্যাহত

তেলের অচলাবস্থায় খুলনা, ডিপো থেকে উত্তোলন বন্ধে ১৫ জেলায় পাম্পে তীব্র সংকট

০৪:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

খুলনায় জ্বালানি তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ট্যাংক-লরি মালিক ও চালকরা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখায় খুলনা অঞ্চল ও আশপাশের ১৫ জেলার পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেক পাম্প তেলশূন্য হয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে।

তেল উত্তোলন বন্ধ থাকায় শনিবারের পর রবিবার সকাল থেকেও একই পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে পাম্প মালিক—সবাই পড়েছেন ভোগান্তিতে।

চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান

খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক-লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ পিন্টু জানান, খুলনা বিভাগ এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ১৫ জেলায় প্রতিদিন অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের মোট চাহিদা প্রায় ৩৬ লাখ লিটার।

কিন্তু খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপো থেকে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র প্রায় সাড়ে ১০ লাখ লিটার। চাহিদার তুলনায় এই সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় ট্যাংক-লরি মালিক ও চালকরা প্রতিবাদ হিসেবে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি রবিবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে।

খুলনার তিন ডিপো থেকে স্বেচ্ছায় জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ

ডিপো সিন্ডিকেটের অভিযোগ

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল করিম অভিযোগ করেন, তিনটি ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল মজুত থাকলেও সিন্ডিকেট করে সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি ট্যাংক-লরির ধারণক্ষমতা সাধারণত ৯ হাজার থেকে ২২ হাজার লিটার পর্যন্ত হয়। কিন্তু সেখানে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ হাজার থেকে ৪ হাজার লিটার তেল। এতে করে গাড়ি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে পাম্পগুলোতে ভোক্তাদের চাপও বেড়ে যাচ্ছে, যার ফলে পাম্প মালিকদের মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

পাম্পগুলোতে দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে তেল

খুলনা নিউ মার্কেট এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, শনিবার থেকেই পাম্প মালিকরা তেল পাচ্ছেন না। প্রতিদিন একটি পাম্পে প্রায় তিন হাজার লিটার অকটেন এবং তিন হাজার লিটার ডিজেল দেওয়া হয়। এছাড়া একদিন পরপর তিন হাজার লিটার পেট্রোল দেওয়া হয়।

কিন্তু এই সীমিত সরবরাহ সন্ধ্যার আগেই শেষ হয়ে যায়। রবিবার সকালে তাদের পাম্প সম্পূর্ণ তেলশূন্য হয়ে পড়ে।

খুলনায় ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ « বাংলাখবর প্রতিদিন

ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ছে

নগরীর ফেরিঘাট এলাকার একটি পাম্পের মালিক কাজী মাসুদুর রহমান বলেন, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছু তেল সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় আর দেওয়া যাচ্ছে না। অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

কেসিসি পাম্পের সুপারভাইজার মুজিবুর রহমান বলেন, রবিবারও কোনো তেল সরবরাহ পাওয়া যায়নি। ফলে পাম্পের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। সমস্যার সমাধান না হলে দ্রুত তেল পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

প্রশাসনের অবস্থান

খুলনার জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, তেল উত্তোলন বন্ধ রাখা সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। স্থানীয় কিছু সমস্যার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

তিনি জানান, বাস্তবে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।