কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সোমবার জেলার সদর ও কটিয়াদি উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এক কৃষক, দুই তরুণ, এক নারী ও এক শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। ঘটনাগুলো এলাকাজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কটিয়াদিতে ট্রাক উল্টে কৃষকের মৃত্যু
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে ভৈরব–কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের কটিয়াদি উপজেলার আছমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উল্টে যায়।
এ সময় রাস্তার পাশে গরুকে ঘাস খাওয়াচ্ছিলেন ইমান মিয়া নামে এক কৃষক। ট্রাকটি তার ওপর পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে তার গরুটিও মারা যায়।
নিহত ইমান মিয়া কটিয়াদি উপজেলার আছমিতা ইউনিয়নের চরিপাড়া এলাকার খালেক মিয়ার ছেলে।

শহরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই তরুণের প্রাণহানি
এরপর দুপুর প্রায় দুইটার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ মোড়ে একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারালে দুই তরুণ গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ইরফান নামে এক স্কুলছাত্রকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপর আহত নওশাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ইরফান কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকার ফোরকান মিয়ার ছেলে এবং কিশোরগঞ্জ উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
বাস ও সিএনজি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু
এদিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশতা এলাকায় ভৈরব–কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে একটি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী নিহত হন। দুর্ঘটনার পর তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার বিন্নাটি এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরপরই শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া এবং কটিয়াদি মহাসড়ক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খুরশিদ আলম এসব দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, সড়কে বেপরোয়া গতি ও অসতর্ক চালনার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















