বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একটি কক্ষে গভীর রাতে আগুন লাগার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো ওয়ার্ডজুড়ে। আগুনের মধ্যে রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সময় দুইজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে উঠেছে অক্সিজেন সংকট ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন।
আগুনে আতঙ্ক, ধোঁয়ায় অচল পরিস্থিতি
মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১১টার দিকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার একটি কর্নারে আগুনের সূত্রপাত হয়। সেখানে রোগীদের ব্যবহারের জন্য রাখা ফোম, চাদর ও বালিশে আগুন ধরে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেলে রোগী, স্বজন ও কর্মরত সেবিকাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।
ফায়ার সার্ভিস খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ধোঁয়ার কারণে আগুন নেভাতে সময় লাগে।

রোগী সরাতে গিয়ে মৃত্যু
আগুনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ট্রলির মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এই সময় দুইজন রোগীর মৃত্যু হয়। তারা হলেন পটুয়াখালীর কাজী আতাউর রহমান এবং বরিশালের আবুল হোসেন।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন, যার মধ্যে রোগীর স্বজন এবং আগুন নেভাতে আসা কয়েকজন কর্মীও ছিলেন। তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অক্সিজেন না পাওয়ার অভিযোগ
মৃত কাজী আতাউর রহমানের পরিবারের অভিযোগ, তিনি অক্সিজেন নির্ভর রোগী ছিলেন। আগুনের সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়াই নিচে নামানো হয়। পরে দ্রুত অক্সিজেনের ব্যবস্থা না হওয়ায় তার মৃত্যু ঘটে। এমনকি হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্স থেকেও অক্সিজেন পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
অন্যদিকে আবুল হোসেনের ছেলে জানান, তিনি হাসপাতালে এসে বাবাকে মৃত অবস্থায় পান, যা তাদের জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও তদন্ত
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত দুই রোগীর অবস্থা আগে থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। তাদের মৃত্যু সরাসরি আগুনে নয়, বরং স্থানান্তরের সময় অক্সিজেনের অভাবে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দ্রুত রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। শর্টসার্কিট কিংবা অসতর্কভাবে ফেলা ধূমপানের আগুন থেকে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















