কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সকাল দশটায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের ১৯৯তম ঈদের জামাত, যেখানে দেশ-বিদেশ থেকে লাখো মুসল্লির সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শতাব্দীজুড়ে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা
ঊনবিংশ শতকের শুরু থেকে চলে আসা শোলাকিয়ার এই জামাত শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ও সামাজিক মিলনমেলা। প্রতিবছর প্রায় এক লাখ পঁচিশ হাজার বা তারও বেশি মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন, আর সেই সংখ্যার ধারণা থেকেই ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি। এবারের জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি
জামাতকে কেন্দ্র করে মাঠে নামাজের কাতার নির্ধারণ, মিহরাব নির্মাণ, সাদা রং করা, অজুর ব্যবস্থা এবং সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই জামাতে অংশ নিতে, কারণ অনেকের বিশ্বাস এখানে নামাজ আদায় করলে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
নিরাপত্তায় কঠোর ব্যবস্থা
অতীতের ঘটনার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো এলাকা নজরদারির আওতায় রাখতে স্থাপন করা হয়েছে চৌষট্টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ছয়টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।
প্রায় এক হাজার একশ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ড্রোন নজরদারি, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও একাধিক চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিদের চার স্তরের নিরাপত্তা পার হয়ে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হবে।

জরুরি সেবায় প্রস্তুতি
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা দল এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার ইউনিট। প্রশাসন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
যাতায়াতে বিশেষ ব্যবস্থা
মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয়েছে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন। এছাড়া পুরনো ঐতিহ্য অনুযায়ী ফাঁকা গুলির সংকেত দিয়ে জামাত শুরুর সময় নির্ধারণ করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের শুধু জায়নামাজ সঙ্গে নিয়ে প্রবেশের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















