০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
শিশুদের ক্ষতির দায়ে প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে রায়, সামাজিক মাধ্যম নিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা মঙ্গালুরু বন্দরে জ্বালানির জোয়ার, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল-গ্যাস আনলো জাহাজ ডিজেলের সিন্ডিকেটে জিম্মি ঝিনাইদহ, চাষাবাদে বাড়ছে খরচে কৃষকের দিশেহারা অবস্থা চাল-গম সংগ্রহে বড় ঘাটতি, সংসদীয় কমিটির সতর্কবার্তা—পরিকল্পনা জোরদারের তাগিদ রানের জাদুতে নতুন নায়ক স্মরণ, রঞ্জি ট্রফিতে ঝড় তুলে আইপিএল স্বপ্নে চোখ তেলবাজারে ধাক্কা, যুদ্ধ থামাতে প্রস্তাব—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে আলাবামার ইসলামিক একাডেমি থেকে কংগ্রেস, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইসলামভীতির নতুন ঢেউ দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে ঝড়ের ইঙ্গিত, জ্বালানি সংকটে টালমাটাল ঈদের ভিড়ে রংপুরে টিকিট সংকট, কাউন্টারে নেই—কালোবাজারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি “চিরতরে” শেষ করার যুদ্ধ কখনো শেষ হয় না, ইরান প্রসঙ্গে থমাস ফ্রিডম্যানের তিন নিয়ম

নিয়মিত ঘুমের রহস্য: সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কীভাবে গড়ে ওঠে প্রতিদিনের ঘুমের ছন্দে

ঘুম আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হলেও “নিয়মিত ঘুম” বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম মানে পুরোপুরি একই রকম ঘুম নয়, বরং এমন একটি ছন্দ যেখানে প্রতিদিনের ঘুমের সময় কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সেটি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থাকে।

নিয়মিত ঘুম আসলে কী

মানুষের ঘুম স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা অনিয়মিত। এটি একটানা নয়, বরং ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে ঘটে। এই অংশগুলো সাধারণত রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘটে, যা শরীরের দৈনিক জৈব ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই জৈব ছন্দের কারণে প্রতিদিন ঘুমের সময় সামান্য পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তবে প্রতিরাতে এক ঘণ্টার বেশি সময়ের পার্থক্য থাকলে সেটিকে অস্বাভাবিক ধরা হয়।

15 Proven Tips to Sleep Better at Night

আলো-অন্ধকার ও ঘুমের সম্পর্ক

ঘুমের সময় নির্ধারণে আলো ও অন্ধকারের বড় ভূমিকা রয়েছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পর্যাপ্ত আলো পাওয়া এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর অন্ধকারে থাকা ঘুমকে নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ঘুমের সময় অতিরিক্ত আলো, শব্দ বা তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘুমের ছন্দকে ভেঙে দিতে পারে।

অনিয়মিত ঘুমের কারণ

অনেক সময় বেশি সময় বিছানায় কাটানো, নির্দিষ্ট সময় না মেনে ঘুমানো বা জেগে ওঠা, কিংবা রাতে দেরিতে খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাস ঘুমকে অনিয়মিত করে তোলে। এর ফলে ঘুমের ভেতরে জেগে থাকার সময় বাড়ে এবং ঘুমের ধারাবাহিকতা কমে যায়।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম আরও বেশি দেখা যায়। নবজাতকরা সারাদিনে বিভিন্ন সময়ে ঘুমায়, আর বয়স্কদের মধ্যে ঘুমের ছন্দ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

রোগ ও ঘুমের অনিয়ম

কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও ঘুমকে অনিয়মিত করে তোলে। বিষণ্নতা, দ্বিমুখী মানসিক অবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্থির পা সমস্যা কিংবা শ্বাসকষ্টজনিত ঘুমের সমস্যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময়সূচি বেশি অনিয়মিত হলে ওজন বৃদ্ধি, বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি: সঠিক উপায়ে ঘুম ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

কীভাবে বজায় রাখবেন নিয়মিত ঘুম

নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। রাতের বেলায় অতিরিক্ত খাওয়া বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার কমানো উচিত। ঘুমের সময়ের চেয়ে বেশি সময় বিছানায় না কাটানো এবং রাতে জেগে উঠলে মোবাইল বা পর্দা ব্যবহার এড়িয়ে চলা ঘুমকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

ভবিষ্যতের সুস্থতার জন্য কেন জরুরি

গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, নিয়মিত ঘুম শুধু দৈনন্দিন স্বস্তি নয়, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। যদিও ঘুমের ওষুধ ঘুমকে নিয়মিত করতে পারে, তবে এর প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুদের ক্ষতির দায়ে প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে রায়, সামাজিক মাধ্যম নিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা

নিয়মিত ঘুমের রহস্য: সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি কীভাবে গড়ে ওঠে প্রতিদিনের ঘুমের ছন্দে

০৩:০০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঘুম আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হলেও “নিয়মিত ঘুম” বলতে ঠিক কী বোঝায়, তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম মানে পুরোপুরি একই রকম ঘুম নয়, বরং এমন একটি ছন্দ যেখানে প্রতিদিনের ঘুমের সময় কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সেটি একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থাকে।

নিয়মিত ঘুম আসলে কী

মানুষের ঘুম স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা অনিয়মিত। এটি একটানা নয়, বরং ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয়ে ঘটে। এই অংশগুলো সাধারণত রাতের নির্দিষ্ট সময়ে ঘটে, যা শরীরের দৈনিক জৈব ঘড়ির সঙ্গে সম্পর্কিত। এই জৈব ছন্দের কারণে প্রতিদিন ঘুমের সময় সামান্য পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। তবে প্রতিরাতে এক ঘণ্টার বেশি সময়ের পার্থক্য থাকলে সেটিকে অস্বাভাবিক ধরা হয়।

15 Proven Tips to Sleep Better at Night

আলো-অন্ধকার ও ঘুমের সম্পর্ক

ঘুমের সময় নির্ধারণে আলো ও অন্ধকারের বড় ভূমিকা রয়েছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পর্যাপ্ত আলো পাওয়া এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ের পর অন্ধকারে থাকা ঘুমকে নিয়মিত রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ঘুমের সময় অতিরিক্ত আলো, শব্দ বা তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘুমের ছন্দকে ভেঙে দিতে পারে।

অনিয়মিত ঘুমের কারণ

অনেক সময় বেশি সময় বিছানায় কাটানো, নির্দিষ্ট সময় না মেনে ঘুমানো বা জেগে ওঠা, কিংবা রাতে দেরিতে খাবার খাওয়ার মতো অভ্যাস ঘুমকে অনিয়মিত করে তোলে। এর ফলে ঘুমের ভেতরে জেগে থাকার সময় বাড়ে এবং ঘুমের ধারাবাহিকতা কমে যায়।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম আরও বেশি দেখা যায়। নবজাতকরা সারাদিনে বিভিন্ন সময়ে ঘুমায়, আর বয়স্কদের মধ্যে ঘুমের ছন্দ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

রোগ ও ঘুমের অনিয়ম

কিছু শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও ঘুমকে অনিয়মিত করে তোলে। বিষণ্নতা, দ্বিমুখী মানসিক অবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্থির পা সমস্যা কিংবা শ্বাসকষ্টজনিত ঘুমের সমস্যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের সময়সূচি বেশি অনিয়মিত হলে ওজন বৃদ্ধি, বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি: সঠিক উপায়ে ঘুম ও স্বাস্থ্য সচেতনতা

কীভাবে বজায় রাখবেন নিয়মিত ঘুম

নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। রাতের বেলায় অতিরিক্ত খাওয়া বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার কমানো উচিত। ঘুমের সময়ের চেয়ে বেশি সময় বিছানায় না কাটানো এবং রাতে জেগে উঠলে মোবাইল বা পর্দা ব্যবহার এড়িয়ে চলা ঘুমকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

ভবিষ্যতের সুস্থতার জন্য কেন জরুরি

গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, নিয়মিত ঘুম শুধু দৈনন্দিন স্বস্তি নয়, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। যদিও ঘুমের ওষুধ ঘুমকে নিয়মিত করতে পারে, তবে এর প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।