ঈদের পরপরই দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিভিন্ন জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে যানবাহন চালক ও সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
ডিপো থেকে কম সরবরাহ, পাম্পে তেলশূন্য অবস্থা
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কোথাও শুধু ডিজেল পাওয়া গেলেও পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ প্রায় বন্ধ। ফলে অধিকাংশ পাম্পে মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় সেগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকরা।

রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ। খোলা পাম্পগুলোতেও তেল না থাকায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতি
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর অঞ্চলে সংকট আরও তীব্র। মহাসড়কের অধিকাংশ পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও সীমিত পরিমাণ পেট্রল পাওয়া গেলেও সেখানে দীর্ঘ লাইন ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
কিছু এলাকায় অভিযোগ উঠেছে, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুত করা হচ্ছে এবং বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা চলছে।
কুড়িগ্রাম ও বগুড়ায় সম্পূর্ণ অচলাবস্থা
কুড়িগ্রামে সব ফিলিং স্টেশন কার্যত তেলশূন্য হয়ে বন্ধ রয়েছে। প্রশাসন অভিযান চালালেও পর্যাপ্ত তেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বগুড়াতেও অর্ধেকের বেশি পাম্প বন্ধ থাকায় যান চলাচলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ছে, কোথাও কোথাও উত্তেজনাও তৈরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ও দক্ষিণাঞ্চলেও সংকট
চট্টগ্রামে কিছু পাম্পে ডিজেল থাকলেও অকটেন নেই, আবার কোথাও উল্টো চিত্র। ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থ লেনদেনের সমস্যা ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা ও বরিশালে পাম্পগুলো দিনে কয়েক ঘণ্টার বেশি খোলা রাখা যাচ্ছে না। স্বল্প সময়েই মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বাড়বে সংকট
পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি না এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিবহন ব্যবস্থা, বাজার সরবরাহ ও অর্থনীতিতে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















