রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাস পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত চলা উদ্ধার অভিযানে নদীর তলদেশ থেকে বাসটি তোলার পর একে একে বেরিয়ে আসে নিথর দেহ, যা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া আরও ঘন করে তুলেছে।
গভীর রাতে বাস উদ্ধার, লাশের মিছিল
বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডুবে থাকা বাসটি পানির নিচ থেকে তোলা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বাসের ভেতর থেকে ধারাবাহিকভাবে লাশ উদ্ধার করতে থাকে। বাসটি তোলার পরই ১৪টি লাশ পাওয়া যায়। এর আগে সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়েছিল আরও দুই জনের মরদেহ। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে।

বিকেলের দুর্ঘটনা, রাত পর্যন্ত অপেক্ষা
বিকাল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যায়। তবে উদ্ধার অভিযান শুরু হতে রাত হয়ে যায়। উদ্ধারকারী জাহাজ কাছেই থাকা সত্ত্বেও দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাত্র কয়েক মিনিটের পথ হলেও উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় নেয় প্রায় এক ঘণ্টা। পরে বাসের অবস্থান নির্ধারণ এবং প্রস্তুতিতে আরও সময় লাগে। এর মধ্যে বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। রাত ৯টার পর বৃষ্টি থামলে শুরু হয় অভিযান।
যাত্রীসংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা
জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে প্রতিদিনের মতো ওই বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল। পথে বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রী ওঠে। চালক ও সহকারীদের নিয়ে বাসটিতে অন্তত ৫০ জন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন বাসে ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারায় বাস
ঘাট সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ছোট ফেরি পন্টুনে জোরে আঘাত করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার মুহূর্তে কয়েকজন যাত্রী নেমে যেতে সক্ষম হলেও অনেকে পানিতে ডুবে যান।
এখনও নিখোঁজ অনেকে
দুর্ঘটনার পর কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও এখনও বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া একজন নারী যাত্রী স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ভারী আবহ, আর একই সঙ্গে বাড়ছে উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















