রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নবদম্পতি কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য ও ডা. ফাতেমাতুজ জহুরা অন্তীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। বিয়ের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই এমন করুণ পরিণতি পরিবার ও স্বজনদের স্তব্ধ করে দিয়েছে।
একসঙ্গে জানাজা, পাশাপাশি দাফন
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজবাড়ীর শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে স্বামী-স্ত্রীর জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। পরে পৌরসভার নতুন বাজার কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। জীবনের মতো মৃত্যুতেও তারা রইলেন পাশাপাশি, যা উপস্থিত মানুষকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

স্বপ্নভরা জীবনের আকস্মিক অবসান
সৌম্য ছিলেন রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তার স্ত্রী অন্তী ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয় এবং তারা ঢাকার উত্তরায় বসবাস করছিলেন। ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে কিছুদিন থাকার কথা থাকলেও সহকর্মীর বিয়েতে যোগ দিতে আগেই ঢাকায় ফিরছিলেন তারা।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা
বুধবার বিকেলে বড়পুল এলাকা থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে ওঠেন তারা। বাসটি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এসে ফেরির অপেক্ষায় থাকাকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ডুবে যাওয়া বাসটি ওপরে তোলা হয়। পরে ডুবুরি দল বাসের ভেতর থেকে সৌম্য ও অন্তীর মরদেহ উদ্ধার করে।
শোকে ভেঙে পড়া পরিবার
স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সৌম্যের বড় চাচা জানান, একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূকে নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করেছিলেন তিনি। তাদের এমন অকাল মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবার। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
এই দুর্ঘটনায় বাসচালকসহ মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আবারও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















