দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারণের পর সেখানে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে ওঠায় চীনের জনপ্রিয় মিল্ক টি ও নতুন ধাঁচের চা ব্র্যান্ডগুলো এখন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো নতুন বাজারে প্রবেশের কৌশল নিচ্ছে।
নতুন বাজারের খোঁজে চীনা ব্র্যান্ড
চীনা চা ব্র্যান্ড চাজি হোল্ডিংস দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের প্রথম দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা সেই বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, যেখানে ইতোমধ্যে হেইটি, মিক্সিউ, চা-পান্ডা ও আন্টিয়া জেনির মতো চীনা ব্র্যান্ড উপস্থিত রয়েছে। আগে যেখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকেই বিদেশে বিস্তারের প্রধান লক্ষ্য ধরা হতো, এখন সেই অবস্থান বদলাচ্ছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে।
বাজারের আকার ও প্রবৃদ্ধি
নতুন ধাঁচের চা পানীয়ের বৈশ্বিক বাজার ২০২৩ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে গড়ে ৭.২ শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এখনও সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অঞ্চল, যেখানে প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৯.৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে চীন, যার প্রবৃদ্ধি ১৭.৬ শতাংশ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়তি চাপ
২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৬০টিরও বেশি চীনা খাদ্য ও পানীয় ব্র্যান্ড ৬,১০০-এর বেশি দোকান খুলেছে। এই বিস্তারের বড় অংশ এসেছে মিক্সিউ, চাজি ও লাকিন কফির মতো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে। তবে এখন বাজারটি ভিড়াক্রান্ত হয়ে উঠছে। দ্রুত সম্প্রসারণের বদলে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দোকান পরিচালনা ও দক্ষতা বাড়ানোর দিকে।
মিক্সিউ তাদের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে কিছু দোকান পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং ওই সময়ের মধ্যে দোকানের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবুও প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থান ধরে রেখে মধ্য এশিয়ায় নতুন বাজার তৈরি করছে এবং কাজাখস্তানে প্রথম দোকান খুলেছে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চা পান করার সংস্কৃতি আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। তরুণদের মধ্যে নতুন ব্র্যান্ড গ্রহণের প্রবণতাও বেশি। চা-পান্ডার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের বিদেশি দোকানের সংখ্যা ২১টি, যার মধ্যে ১১টি দক্ষিণ কোরিয়ায়।
তবে এই বাজারে প্রতিযোগিতা কঠিন। কারণ, তাইওয়ানের বাবল টি ব্র্যান্ডগুলো আগেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ফলে নতুন ব্র্যান্ডগুলোর জন্য গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা এবং নিজেদের পরিচিতি তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
![]()
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে কম ও মাঝারি দামের ব্র্যান্ডের আধিপত্য বেশি, বিশেষ করে ব্যস্ত শপিং এলাকা ও শিক্ষার্থীদের আশেপাশে। এর ফলে নতুনত্ব ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগের ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থাও কিছুটা দুর্বল হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, গং চা ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো দোকান সংখ্যা কমতে দেখেছে এবং টাইগার সুগারের দোকান ২০২০ সালের ৫২টি থেকে ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ১৩টিতে।
পশ্চিমা বাজারে বিস্তার
চীনা ব্র্যান্ডগুলো এখন পশ্চিমা দেশগুলোতেও দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে। ২০২৫ সালে নাইউকি, মিক্সিউ ও আন্টিয়া জেনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দোকান খুলেছে। যুক্তরাজ্যে মলি টি এবং স্পেন ও ফ্রান্সে চা-পান্ডা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশটিতে তাজা চা পানীয়ের বাজার ২.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে এই খাতে ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১৮.২ শতাংশ বেড়ে ৭,৮৪৫-এ দাঁড়িয়েছে।
নিউইয়র্কের ফ্লাশিং এলাকায় চীনা সম্প্রদায়ের কারণে চা পানীয়ের চাহিদা বেড়েছে। সেখানে একাধিক চেইন একত্রে অবস্থান নিয়ে একটি বিশেষ ‘মিল্ক টি স্ট্রিট’ তৈরি করেছে।

নতুন ব্র্যান্ডের উত্থান
মলি টি বর্তমানে দ্রুত সম্প্রসারণের মাধ্যমে নজর কাড়ছে। ২০২৫ সালে তারা ১,১০০টির বেশি নতুন দোকান যুক্ত করেছে, যা তাদের মোট দোকান সংখ্যা ১০১ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম দোকান খোলার পর সেটি মাসে প্রায় ৫ লাখ ডলারের বিক্রি করছে বলে জানা গেছে। এরপর তারা নিউইয়র্ক, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল ও ফিলাডেলফিয়ায়ও সম্প্রসারণ করেছে।
সমগ্র চিত্র
চীনা মিল্ক টি শিল্প এখন একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা তাদের নতুন বাজার খুঁজতে বাধ্য করছে। তবে নতুন অঞ্চলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে প্রতিযোগিতা, ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহক ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















