তামিলনাড়ুর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মতো একতরফা হবে না, বরং দুটি শক্তিশালী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি. চিদাম্বরম। তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত ডিএমকে সরকার গঠন করবে, তবে বিজেপি এই নির্বাচনে জিততে নানা কৌশল ও উপায় প্রয়োগ করবে।
জোট গঠনে নিজের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন
চিদাম্বরম বলেন, ডিএমকে-কংগ্রেস জোট গঠনে তাঁর ভূমিকা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। কংগ্রেস সভাপতি তাঁকে ডিএমকের সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিনের সঙ্গে আলোচনা করে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের দায়িত্ব দেন। একবার সাক্ষাতের পরই সন্ধ্যায় দুই দল ঐকমত্যে পৌঁছায়।
রাহুল গান্ধী ও স্টালিনের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে স্টালিনের সম্পর্কের অবনতি নিয়ে তিনি বলেন, এর জন্য রাহুল গান্ধীকে দায়ী করা ঠিক নয়। প্রাথমিক আলোচনায় কিছু জটিলতা ছিল, যা এড়ানো যেত, তবে এখন তা অতীত।
জোটে অসন্তোষ স্বাভাবিক
জোটে আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তোষের বিষয়ে চিদাম্বরম বলেন, এ ধরনের অসন্তোষ সব জোটেই থাকে। যেমন একটি বিয়েতে দুই পক্ষেরই কিছু না কিছু অসন্তোষ থাকে, তেমনই জোটেও থাকে। তবে সামগ্রিক সন্তুষ্টি থাকলে সেটিই সফল সমঝোতার লক্ষণ।
তামিলনাড়ু বনাম দিল্লি—নির্বাচনের মূল লড়াই
স্টালিন যে এই নির্বাচনকে তামিলনাড়ু বনাম দিল্লির লড়াই হিসেবে তুলে ধরছেন, তা সমর্থন করেন চিদাম্বরম। তাঁর মতে, এআইএডিএমকে এখন বিজেপির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজ্যের নেতৃত্ব, কৌশল ও দিকনির্দেশনা কার্যত বিজেপির হাতে চলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি যেসব বিল পাস করতে চাইছে—যেমন আইবিসি সংশোধনী, এফসিআরএ সংশোধনী ও সিএপিএফ সংশোধনী—এসব নিয়ে দেশজুড়ে অসন্তোষ থাকলেও এআইএডিএমকে কোনো প্রতিবাদ করছে না। এতে বোঝা যায়, তারা বিজেপির সঙ্গে তাল মিলিয়েই চলছে।
এডাপ্পাড়ি পালানিস্বামীর ভূমিকা
এআইএডিএমকের নেতা এডাপ্পাড়ি কে. পালানিস্বামী নিজেকে দলের প্রধান দাবি করলেও চিদাম্বরম বলেন, তিনি দলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নির্বাচনের কৌশল ও ইস্যু নির্ধারণে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।
অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক প্রভাব
অভিনেতা বিজয়ের দল নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে—এ প্রশ্নে চিদাম্বরম বলেন, বিজয় জনপ্রিয় হলেও তিনি এমজিআর বা বিজয়কান্ত নন। তাঁর দল হয়তো ৭ থেকে ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে, সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। কিন্তু এতে আসন জেতা কঠিন। কারণ, তিনমুখী লড়াইয়ে অন্তত ৩৭ শতাংশ ভোট দরকার, আর সরাসরি লড়াইয়ে প্রয়োজন ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট।
জোট সরকার নিয়ে মত
ডিএমকে ও এআইএডিএমকে উভয়েই জোট সরকারের সম্ভাবনা নাকচ করলেও চিদাম্বরম মনে করেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী মানুষ জোট সরকার মেনে নেবে।
আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সমস্যা
রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা অবনতি, নারী নিরাপত্তা ও মাদক সমস্যা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগে কিছুটা সত্যতা আছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে এসব সমস্যা সারা দেশেই রয়েছে। তিনি বলেন, যেই সরকারই আসুক, মাদক নিয়ন্ত্রণ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধ এবং পুলিশকে আরও দক্ষ করে তোলা জরুরি।
স্টালিন সরকারের মূল্যায়ন
অর্থনৈতিক সূচকে তামিলনাড়ু দেশের দ্রুততম উন্নয়নশীল রাজ্য বলে দাবি করেন তিনি। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ, বিদ্যুৎ ও সার ব্যবস্থায় উন্নতি হয়েছে এবং বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।
কল্যাণমূলক প্রকল্প ও অর্থনীতি
বিনামূল্যে বাসযাত্রা ও প্রাতঃরাশ প্রকল্পের মতো কর্মসূচিকে তিনি সার্বজনীন মৌলিক আয়ের অংশ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, রাজ্যের ঋণভার অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। রাজ্যের আয় ও উৎপাদন বাড়লে এই ঋণ সামাল দেওয়া সম্ভব।
নির্বাচনের পূর্বাভাস
চিদাম্বরম বলেন, দুটি শক্তিশালী জোটের কারণে নির্বাচন হবে হাড্ডাহাড্ডি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপি এই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে শেষ পর্যন্ত ডিএমকেই সরকার গঠন করবে বলে তাঁর বিশ্বাস।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















