ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গ। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক’ দাবি করা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া বাড়ছে।
সংবিধান প্রসঙ্গে সরাসরি অবস্থান
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে সংবিধানের নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট অংশের ছবিও প্রকাশ করেন।
সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও নতুন আলোচনা
আসিফ মাহমুদের এই বক্তব্য প্রকাশের পর বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। একই পোস্টের মন্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদও প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগ দিয়ে নয়, সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
এতে স্পষ্ট হয়, স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গটি শুধু ইতিহাসের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ইতিহাস বনাম সংবিধান বিতর্ক
স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দেশে মতভেদ রয়েছে। তবে সংবিধানের ভাষ্য অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারিত হলেও রাজনৈতিক বক্তব্যে এই বিতর্ক বারবার সামনে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে এবং ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে আসিফ মাহমুদের সাম্প্রতিক বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে, স্বাধীনতার ইতিহাস ও সংবিধান নিয়ে বিতর্ক এখনো দেশের রাজনীতিতে সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবেই রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















