০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বাড়ছে খরচ, চাপে সাধারণ মানুষ ইরান যুদ্ধ ঘিরে তেলের বাজারে বড় ধাক্কা জ্বালানি সংকটে লড়াই: রেশনিং, ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর নীতির নতুন বাস্তবতা ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে ৫% কার্বন ট্যাক্সের শঙ্কা, প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ প্রবাহে ধাক্কা: নির্বাচন, অস্থিরতা আর আস্থাহীনতায় চাপে অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নির্দেশ, নরওয়ে-অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি কর কমানো জ্বালানি দামে আগুন, বিমান ভাড়ায় চাপ: সংকটে বিশ্ব এয়ারলাইন শিল্প ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমিরাতের রুটে ধাক্কা, ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, তেলের দামে চাপে ইন্দোনেশিয়া—ঘাটতি বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন কঠোর সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এবং এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা নির্ধারণ।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের কড়াকড়ি নির্দেশ

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রয়োজন ছাড়া কোনো আলো, পাখা বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো যাবে না। অফিস থেকে বের হওয়ার সময় সব লাইট বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ তার মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহে। এই সংকট সামাল দিতে সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে।

জ্বালানি খরচ কমাতে বাড়তি পদক্ষেপ

এরই মধ্যে সরকার জ্বালানি খরচ কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি কেনার ওপর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, বেশিরভাগ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তেল পাম্পগুলোতে নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি দামে চাপ

শুধু বাংলাদেশ নয়, একই সংকটের প্রভাবে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াও পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। নরওয়ে জ্বালানি দামের চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর সাময়িকভাবে কমিয়েছে। এতে প্রতি লিটারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যদিও এই সিদ্ধান্তে সরকারের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া তিন মাসের জন্য জ্বালানির ওপর আরোপিত বিক্রয় কর অর্ধেকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের খরচ কমে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ভিন্নধর্মী সংকট

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যাগের বিক্রি হঠাৎ বেড়ে গেছে। কারণ দেশটিতে নির্দিষ্ট ব্যাগ ছাড়া গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলা যায় না, আর এসব ব্যাগ তৈরিতেও তেলজাত পণ্যের ওপর নির্ভরতা রয়েছে।

ইরানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল

যুদ্ধের মধ্যে ইরানের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রিড দ্রুত মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।

সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি চাপে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বাড়ছে খরচ, চাপে সাধারণ মানুষ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশ

০৫:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন কঠোর সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এবং এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা নির্ধারণ।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের কড়াকড়ি নির্দেশ

সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রয়োজন ছাড়া কোনো আলো, পাখা বা বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো যাবে না। অফিস থেকে বের হওয়ার সময় সব লাইট বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি এয়ারকন্ডিশনের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ তার মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি সরবরাহে। এই সংকট সামাল দিতে সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করছে।

জ্বালানি খরচ কমাতে বাড়তি পদক্ষেপ

এরই মধ্যে সরকার জ্বালানি খরচ কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি কেনার ওপর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, বেশিরভাগ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তেল পাম্পগুলোতে নজরদারিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি দামে চাপ

শুধু বাংলাদেশ নয়, একই সংকটের প্রভাবে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াও পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। নরওয়ে জ্বালানি দামের চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর সাময়িকভাবে কমিয়েছে। এতে প্রতি লিটারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যদিও এই সিদ্ধান্তে সরকারের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া তিন মাসের জন্য জ্বালানির ওপর আরোপিত বিক্রয় কর অর্ধেকে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের খরচ কমে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ভিন্নধর্মী সংকট

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যাগের বিক্রি হঠাৎ বেড়ে গেছে। কারণ দেশটিতে নির্দিষ্ট ব্যাগ ছাড়া গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলা যায় না, আর এসব ব্যাগ তৈরিতেও তেলজাত পণ্যের ওপর নির্ভরতা রয়েছে।

ইরানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল

যুদ্ধের মধ্যে ইরানের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রিড দ্রুত মেরামত করে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।

সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি চাপে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে।