০৭:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বাড়ছে খরচ, চাপে সাধারণ মানুষ ইরান যুদ্ধ ঘিরে তেলের বাজারে বড় ধাক্কা জ্বালানি সংকটে লড়াই: রেশনিং, ডিজিটাল নজরদারি ও কঠোর নীতির নতুন বাস্তবতা ইইউতে পোশাক রপ্তানিতে ৫% কার্বন ট্যাক্সের শঙ্কা, প্রস্তুত হচ্ছে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ প্রবাহে ধাক্কা: নির্বাচন, অস্থিরতা আর আস্থাহীনতায় চাপে অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নির্দেশ, নরওয়ে-অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি কর কমানো জ্বালানি দামে আগুন, বিমান ভাড়ায় চাপ: সংকটে বিশ্ব এয়ারলাইন শিল্প ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমিরাতের রুটে ধাক্কা, ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা, তেলের দামে চাপে ইন্দোনেশিয়া—ঘাটতি বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

ইরান যুদ্ধের মধ্যেও টিকে আছে বিটকয়েন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়ছে ক্রিপ্টো গ্রহণের আশাবাদ

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে বিটকয়েন, তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। শেয়ারবাজার ও বন্ডের ওঠানামার মধ্যেও এই স্থিতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রিপ্টো গ্রহণের নতুন আশাবাদ তৈরি করছে।

ক্রিপ্টো বাজারের অপ্রত্যাশিত স্থিতি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিটকয়েনের দাম প্রায় ৬৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। একই সময়ে শেয়ারবাজারে বড় পতন এবং ডলারের শক্তিশালী হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে অনেকের কাছে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—ক্রিপ্টো কি সত্যিই বিকল্প নিরাপদ সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে?

তবে এই স্থিতিশীলতার পেছনে আগের বড় ধসের প্রভাবও রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পতনে বিটকয়েনের দাম এখনও বছরের হিসাবে ২০ শতাংশের বেশি কম অবস্থায় রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতা: লাভ-ক্ষতির গল্প
অনেক বিনিয়োগকারী আগের উত্থানের সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ গুণ লিভারেজ নিয়ে বিনিয়োগ করে সম্পূর্ণ পুঁজি হারিয়েছেন এবং বাজার ছেড়ে চলে গেছেন। অন্যদিকে কিছু বিনিয়োগকারী সময়মতো লাভ তুলে স্থিতিশীল কয়েনে অবস্থান নিয়েছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রিপ্টোর প্রসার
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ইতিমধ্যেই ক্রিপ্টো গ্রহণে এগিয়ে। কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম বিশ্বে শীর্ষ ক্রিপ্টো ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় রয়েছে। যদিও দামের পতনে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহ বাড়ছে।

ব্লকচেইন প্রযুক্তির সুবিধা
ক্রিপ্টোর মূল প্রযুক্তি ব্লকচেইন দ্রুত, ২৪ ঘণ্টা চালু এবং মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই লেনদেন সম্ভব করে। বিশেষ করে সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে এটি খরচ কমায়। এই সুবিধার কারণে স্টেবলকয়েনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, যা এখন মোট ক্রিপ্টো লেনদেনের বড় অংশ দখল করেছে।

স্টেবলকয়েন ও প্রবাসী শ্রমিকদের ভূমিকা
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমিকদের জন্য স্টেবলকয়েন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুদ্ধ বা সংকটের সময় প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হলে তারা সহজে দেশে টাকা পাঠাতে এই ডিজিটাল মুদ্রার দিকে ঝুঁকছে।

Bitcoin resilience amid Iran war raises optimism about crypto adoption in ASEAN - Nikkei Asia

বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত বাড়লেই ডলারভিত্তিক স্টেবলকয়েনের চাহিদা বেড়ে যায়।

প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি আগ্রহ বৃদ্ধি
একসময় ক্রিপ্টোকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হলেও এখন ব্যাংক ও সরকারগুলো এতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাজারে প্রবেশে উৎসাহিত করছে।

একাধিক বড় ব্যাংক ইতিমধ্যে ডিজিটাল সম্পদ এক্সচেঞ্জ চালু করেছে এবং নতুন বিনিয়োগ পণ্যও নিয়ে আসছে। ভিয়েতনামেও বড় ব্যাংকগুলো ক্রিপ্টো খাতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রার উত্থান
ক্রিপ্টোর প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও ডিজিটাল মুদ্রা চালু করার চেষ্টা করছে। কম্বোডিয়ার ‘বাকং’ প্ল্যাটফর্ম এর একটি উদাহরণ, যা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লেনদেন প্রক্রিয়া করছে এবং দেশের অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা একীভূত করেছে।

বাজারের বর্তমান মানসিকতা
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন বাজার এখনও তলানিতে পৌঁছায়নি। তবুও দীর্ঘমেয়াদে ক্রিপ্টোর সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ রয়েছে এবং কিছু বিনিয়োগকারী ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।

ক্রিপ্টোর ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধা
ক্রিপ্টো মূলত বিকেন্দ্রীকরণের ধারণা নিয়ে শুরু হলেও এখন বড় ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বাড়ছে। এতে অনেক পুরোনো সমর্থক মনে করছেন, ক্রিপ্টো তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে এবং প্রচলিত অর্থনীতির মতোই কেন্দ্রীভূত হয়ে উঠছে।

উপসংহার
ইরান যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ক্রিপ্টোকারেন্সির স্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্বল্পমেয়াদে অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রযুক্তিগত সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ক্রিপ্টোর প্রসার অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বাড়ছে খরচ, চাপে সাধারণ মানুষ

ইরান যুদ্ধের মধ্যেও টিকে আছে বিটকয়েন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাড়ছে ক্রিপ্টো গ্রহণের আশাবাদ

০৬:০০:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা বাড়লেও ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিশেষ করে বিটকয়েন, তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। শেয়ারবাজার ও বন্ডের ওঠানামার মধ্যেও এই স্থিতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রিপ্টো গ্রহণের নতুন আশাবাদ তৈরি করছে।

ক্রিপ্টো বাজারের অপ্রত্যাশিত স্থিতি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিটকয়েনের দাম প্রায় ৬৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। একই সময়ে শেয়ারবাজারে বড় পতন এবং ডলারের শক্তিশালী হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে অনেকের কাছে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—ক্রিপ্টো কি সত্যিই বিকল্প নিরাপদ সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে?

তবে এই স্থিতিশীলতার পেছনে আগের বড় ধসের প্রভাবও রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পতনে বিটকয়েনের দাম এখনও বছরের হিসাবে ২০ শতাংশের বেশি কম অবস্থায় রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতা: লাভ-ক্ষতির গল্প
অনেক বিনিয়োগকারী আগের উত্থানের সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ ১০ থেকে ২০ গুণ লিভারেজ নিয়ে বিনিয়োগ করে সম্পূর্ণ পুঁজি হারিয়েছেন এবং বাজার ছেড়ে চলে গেছেন। অন্যদিকে কিছু বিনিয়োগকারী সময়মতো লাভ তুলে স্থিতিশীল কয়েনে অবস্থান নিয়েছেন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রিপ্টোর প্রসার
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ইতিমধ্যেই ক্রিপ্টো গ্রহণে এগিয়ে। কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম বিশ্বে শীর্ষ ক্রিপ্টো ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় রয়েছে। যদিও দামের পতনে অনেক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহ বাড়ছে।

ব্লকচেইন প্রযুক্তির সুবিধা
ক্রিপ্টোর মূল প্রযুক্তি ব্লকচেইন দ্রুত, ২৪ ঘণ্টা চালু এবং মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই লেনদেন সম্ভব করে। বিশেষ করে সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রে এটি খরচ কমায়। এই সুবিধার কারণে স্টেবলকয়েনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, যা এখন মোট ক্রিপ্টো লেনদেনের বড় অংশ দখল করেছে।

স্টেবলকয়েন ও প্রবাসী শ্রমিকদের ভূমিকা
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শ্রমিকদের জন্য স্টেবলকয়েন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। যুদ্ধ বা সংকটের সময় প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যাহত হলে তারা সহজে দেশে টাকা পাঠাতে এই ডিজিটাল মুদ্রার দিকে ঝুঁকছে।

Bitcoin resilience amid Iran war raises optimism about crypto adoption in ASEAN - Nikkei Asia

বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাত বাড়লেই ডলারভিত্তিক স্টেবলকয়েনের চাহিদা বেড়ে যায়।

প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি আগ্রহ বৃদ্ধি
একসময় ক্রিপ্টোকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হলেও এখন ব্যাংক ও সরকারগুলো এতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাজারে প্রবেশে উৎসাহিত করছে।

একাধিক বড় ব্যাংক ইতিমধ্যে ডিজিটাল সম্পদ এক্সচেঞ্জ চালু করেছে এবং নতুন বিনিয়োগ পণ্যও নিয়ে আসছে। ভিয়েতনামেও বড় ব্যাংকগুলো ক্রিপ্টো খাতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিজিটাল মুদ্রার উত্থান
ক্রিপ্টোর প্রভাব মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও ডিজিটাল মুদ্রা চালু করার চেষ্টা করছে। কম্বোডিয়ার ‘বাকং’ প্ল্যাটফর্ম এর একটি উদাহরণ, যা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ লেনদেন প্রক্রিয়া করছে এবং দেশের অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা একীভূত করেছে।

বাজারের বর্তমান মানসিকতা
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন বাজার এখনও তলানিতে পৌঁছায়নি। তবুও দীর্ঘমেয়াদে ক্রিপ্টোর সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ রয়েছে এবং কিছু বিনিয়োগকারী ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।

ক্রিপ্টোর ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধা
ক্রিপ্টো মূলত বিকেন্দ্রীকরণের ধারণা নিয়ে শুরু হলেও এখন বড় ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বাড়ছে। এতে অনেক পুরোনো সমর্থক মনে করছেন, ক্রিপ্টো তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে এবং প্রচলিত অর্থনীতির মতোই কেন্দ্রীভূত হয়ে উঠছে।

উপসংহার
ইরান যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ক্রিপ্টোকারেন্সির স্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্বল্পমেয়াদে অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রযুক্তিগত সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ক্রিপ্টোর প্রসার অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে।