ফরিদপুরের মাধুখালী উপজেলায় লক্ষণদিয়া রেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুই যমজ শিশু নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। মর্মান্তিক ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা রেলপথ অবরোধ করেন এবং এই ক্রসিংয়ে পূর্ণাঙ্গ রেলগেট স্থাপন ও স্থায়ী কর্মী নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

অরক্ষিত ক্রসিং, বারবার মৃত্যু
ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ঘটনার পর বিক্ষোভকারীরা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য রেলপথ বন্ধ রাখেন। মাধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকেলে ওই ট্রেন ভাটিয়াপাড়া থেকে ফিরে আসার সময় বিক্ষোভকারীরা পুনরায় রেলপথ অবরোধ করেন। পরে কর্তৃপক্ষ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলে ট্রেন ছেড়ে দেওয়া হয়।
দাবি একটাই: গেট বসাও

স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষণদিয়া ক্রসিংয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী গেট বা দায়িত্বরত কর্মী নেই। রেললাইনের পাশে বসবাসকারী পরিবারগুলো বারবার এই ক্রসিংকে মৃত্যুফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত করলেও কর্তৃপক্ষ এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যমজ দুই শিশুর মৃত্যু এই দীর্ঘদিনের অবহেলার চূড়ান্ত পরিণতি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এই ক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর রেল দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান। এর বড় অংশই ঘটে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রসিংগুলোতে গেট ও পূর্ণকালীন কর্মী নিশ্চিত করা ছাড়া এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















