প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পিত $৪০০ মিলিয়ন ডলারের বলরুমের ওপরে যে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তার চেয়েও বেশি জটিল এবং ব্যয়বহুল হতে পারে এর নিচে থাকা অংশ। কয়েক সপ্তাহ ধরে নির্মাণকর্মীরা মাটিতে খনন করছেন, প্রেসবিডেনশিয়াল ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার (PEOC) সরিয়ে দিয়ে আরও বড়, উন্নত এবং গভীর আন্ডারগ্রাউন্ড সুবিধা তৈরি করছেন।
PEOC, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, সেখানে ৯/১১ হামলার পরে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ ও তার জাতীয় নিরাপত্তা দলও সেখানে যোগ দেন। ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদে ট্রাম্পকেও সেখানে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এই আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারটি পূর্বে ইস্ট উইং হিসেবে পরিচিত স্থানের নিচে অবস্থিত, যা ট্রাম্প গত বছর ধ্বংস করে বলরুমের জন্য স্থান তৈরি করেছিলেন। সাধারণত এই সুরক্ষিত স্থানের বিস্তারিত তথ্য গোপন থাকে, কিন্তু বলরুম প্রকল্পের আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প এখন বাংকারের কথা আরও খোলাখুলিভাবে বলছেন। তিনি যুক্তি দেন, বলরুম এবং বাংকার একে অপরের সঙ্গে যুক্ত, তাই বলরুম তৈরি নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
PEOC সম্পর্কে যা জানা যায়
‘এক বিশাল সামরিক কমপ্লেক্স’
এয়ার ফোর্স ওয়ানের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেছিলেন, তার ৯০,০০০ বর্গফুটের বলরুম আন্ডারগ্রাউন্ড প্রকল্পের জন্য একটি ‘শেডের’ মতো কাজ করবে। তিনি জানান, “সামরিক বাহিনী বলরুমের নিচে একটি বিশাল কমপ্লেক্স তৈরি করছে, যা নির্মাণাধীন এবং আমরা খুব ভালো অগ্রগতি করছি।”
ট্রাম্পের বিবরণ অনুযায়ী, বাংকারে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধা, হাসপাতালসহ নানা সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে সর্বাধুনিক নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বায়োওয়েপন প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকবে। তিনি বললেন, বলরুম আন্ডারগ্রাউন্ড স্থাপনাটি ড্রোন, গোলি ও অন্যান্য হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে। বলরুমের সব জানালা উচ্চমানের বুলেটপ্রুফ কাঁচের তৈরি হবে।

গত সপ্তাহে ক্যাবিনেট সভায় বলরুম প্রকল্প নিয়ে ট্রাম্প জানান, “সামরিক বাহিনী এ প্রকল্পের প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।” ট্রাম্প আরও বলেন, নিরাপত্তার কারণে তার প্রকল্প আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিচারক প্রোজেক্ট স্থগিত করার পরও তিনি এটিকে আবার উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তার অধীনে নির্মাণ
ফেডারাল ডিসট্রিক্ট কোর্টের বিচারক রিচার্ড জে. লিয়ন উল্লেখ করেন, “সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়নের অনুমোদন না দিলে নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।” ট্রাম্প আপিলের নির্দেশ দেন এবং আদালতের সেই অংশের দিকে ইঙ্গিত করেন যা বলেছে, “ওয়াইট হাউসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণ চলতে পারে।”
ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সবত্রে বায়োডিফেন্স আছে। নিরাপদ টেলিকম এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে। আমরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছি। হাসপাতাল এবং বড় ধরনের চিকিৎসা সুবিধাও তৈরি হচ্ছে। এগুলো সবই চলমান। তাই আমি নির্মাণ চালিয়ে যেতে পারি।”
সিক্রেট সার্ভিসের বক্তব্য
সিক্রেট সার্ভিস আদালতে বলেছে, বলরুম প্রকল্প বন্ধ করলে জীবন বিপন্ন হতে পারে। ডেপুটি ডিরেক্টর ম্যাথু সি. কুইন জানান, আন্ডারগ্রাউন্ড কাজ এখনও শেষ হয়নি এবং কোনো বিলম্বে সংস্থার নিরাপত্তা দায়িত্ব প্রভাবিত হবে। ট্রাম্প প্রশাসনও কিছু নথি ফেডারাল কোর্টে সিক্রেটভাবে জমা দিয়েছিল।
যাইহোক, বিচারক লিয়ন বেশিরভাগ যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ওয়াইট হাউসের পাশে ‘বড় গর্ত’ থাকা সমস্যার মূল কারণ প্রেসিডেন্টের নিজের করা!”
নির্মাণ ও খরচ সম্পর্কিত বহু প্রশ্ন এখনো মেলেনি। কোন সামরিক শাখা যুক্ত, নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কত, এবং অন্যান্য বিস্তারিত এখনও অজানা। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলাইন লিভিটও আন্ডারগ্রাউন্ড অংশের তথ্য সীমিত রেখেছেন।
“সামরিক বাহিনী এখানে কিছু উন্নয়ন করছে, আর আমি তার বেশি বিস্তারিত জানাতে পারছি না,” তিনি বলেন।
Sarakhon Report 



















