পাকিস্তানের সহিওয়াল জেলার চিচাওয়াতনি এলাকায় আইনজীবীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের চলমান বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কয়েক দিনের টানাপোড়েন শেষে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিলে আদালত ও রাজস্ব দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। সংঘর্ষ, ভাঙচুর, মামলা এবং পাল্টা অভিযোগে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ
প্রশাসনের অভিযোগ, একদল আইনজীবী সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সময় দপ্তরের কর্মচারীদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া এক পাটওয়ারিকে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও করা হয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ৬০ থেকে ৭০ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
টানা দ্বিতীয় মামলায় বাড়ছে উত্তেজনা
ঘটনার আগের দিনও কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা হয়েছিল। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় একশ আইনজীবী সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় ৫০ মিনিট ধরে চলা এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাজস্ব বিভাগের কর্মীরাও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
বন্ধ হয়ে যায় সরকারি কার্যক্রম
সংঘর্ষের পর আইনজীবীরা কিছু সরকারি কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা সেই তালা ভেঙে কাজ শুরু করার চেষ্টা করেন।
এদিকে চলমান বিরোধের কারণে আদালত ও রাজস্ব সংক্রান্ত অধিকাংশ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ মানুষ নানা কাজে আদালতে এলেও কার্যক্রম না চলায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন। হাজারো মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
ধর্মঘট ও বয়কট অব্যাহত

আইনজীবী সমিতি তাদের বয়কট ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে রাজস্ব বিভাগের কর্মীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে প্রশাসনিক ও বিচারিক উভয় ক্ষেত্রেই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত ও প্রশাসনিক ভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানা গেছে।
সমাধানের পথ এখনও অনিশ্চিত
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সম্ভাবনাও এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে আইনজীবী নেতারা দাবি করেছেন, এই বিরোধের জন্য রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারাই দায়ী। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে চাপ সৃষ্টি করছে। তারা আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।

যেভাবে শুরু হয়েছিল বিরোধ
দুই দিন আগে একটি নিয়মিত শুনানির সময় এক আইনজীবী ও এক রাজস্ব কর্মকর্তার মধ্যে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর আরও কয়েকজন আইনজীবী সেখানে এসে কর্মকর্তার ওপর হামলা চালান।
এরপর রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা প্রতিবাদে কর্মবিরতি শুরু করেন এবং আইনজীবীরাও নিজেদের সহকর্মীদের সমর্থনে অবস্থান নেন। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করে বিরোধ আরও তীব্র করে তোলে।
এই সংঘাত এখন শুধু দুই পক্ষের বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপরও। দ্রুত সমাধান না হলে প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















